প্রয়োজন বিদ্যালয়মুখী শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার

কর্নেল নুরন্ নবী (অব.) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ। শিক্ষা হলো একটি বিশেষ দর্শন; যা জীবন দর্শনের উপর নির্ভর। সক্রেটিসের ভাষায় ‘শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার। ক্যান্টের মতে ‘আদর্শ মনুষ্যত্ব অর্জনই শিক্ষা। আমার মতে, শিক্ষা হলো—জীবনের মতোই ব্যাপক যা আজীবন সাধনার এক অমূল্য সামগ্রী। জন্মের পর থেকে শিক্ষা শুরু হয় চলে আমৃত্যু। শিশুর অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার পর পূর্ণ পরিসরে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা। স্কুল জীবন শুরুর মাধ্যমে এ শিক্ষার শুরু এবং শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার মাধ্যমে যা পরিচালিত হয়। পারিবারিক শিক্ষার মতোই বিদ্যালয় কেন্দ্রিক শ্রেণি শিক্ষা ছাত্রছাত্রীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্ববহ। বিদ্যালয় জীবনে একজন শিক্ষক-শিক্ষিকা সুশিক্ষার মাধ্যমে শিশুর অন্তর্নিহিত গুণাবলী বিকাশে সহায়তা করে। প্রতিদিনকার চলমান পাঠ প্রক্রিয়ায় যা তাকে সমাজের একজন যোগ্য ও উত্পাদনশীল মানুষ হিসেবে তৈরি করে। সুতরাং বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ কেন্দ্রিক শিক্ষা একজন ছাত্রছাত্রীকে মানুষের মতো মানুষ হতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাাগণই পারেন আমাদের শ্রেণি শিক্ষার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। বিদ্যালয়কে নিতান্ত অনাথ দালানে পরিণত না করে এর ভেতরকার প্রাণগুলো জাগাতে পারে আমাদের শিক্ষক সমাজ। আমার মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে মহত্ এই পেশাটি অতটা মহত্ব লাভের একটি উপায় ছিল বিদ্যালয় কেন্দ্রিক শ্রেণি শিক্ষা। একজন শিক্ষকের অবয়বকে আমরা স্মৃতির সমীকরণে এভাবেই তো ভাবি। একটি বিদ্যালয়, ছাত্রছাত্রী, হয়ত তাদের মধ্যে একদিন আমিও ছিলাম, ছিলেন আপনিও। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এটাই আমি জানি এবং মানি। খুব খারাপ লাগে যখন শোনা যায়, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সামপ্রতিক সময়ে শোনা এই কথাগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক সমাজ সবার জন্যই লজ্জাকর। কিভাবে যেন রাতারাতি মেরুদণ্ডটি নিতান্তই দন্ড হয়ে গেল। আমরা যাকে জানি কোচিং বাণিজ্য নামে। আমাদের শিক্ষকদের পূর্ণ মর্যাদা, শিক্ষার মান আর বিদ্যালয়গুলোতে চিরচেনা শ্রেণি কক্ষ ফিরিয়ে আনতে এই সর্বগ্রাসী ব্যধিকে রুখতেই হবে। আমাদের সরকার এব্যাপারে আন্তরিক, অভিভাবকদেরও আন্তরিক হতে হবে। গুণগতমানের শিক্ষার মাধ্যমে সমৃদ্ধ আগামী গড়ার জন্য বাণিজ্যিক ধারার কোচিংকে রুখতে সামনে থেকে কাজ করবে আমাদের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ। পেশাগত নৈতিক মূল্যবোধ বিবেচনা থেকে যা সম্ভব।