মাঠের ‘সেরা দল’ হওয়ার আশা

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর থেকেই চারদিকে রব উঠেছে, এবারের দলটাই বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ দল। বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল বাংলাদেশ। পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার ১২ বছরের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। তারা একসঙ্গে ১০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলে ফেলেছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছাড়া বাকি চারজনই খেলতে যাচ্ছেন চতুর্থ বিশ্বকাপ।

সবমিলিয়ে বাংলাদেশের দলটার পাশে সময়ের সেরা দলের তকমা জুড়ে গেছে। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য কাগজে-কলমে, কথার লড়াইয়ের সেরা দল হতে চান না। তার টার্গেট মাঠের লড়াইয়ে সেরা দল হওয়া। তার দৃষ্টিতে, ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক সেরা দলই কিছু জিততে পারেনি। তাই মাঠে ভালো করা দলটার ছবিই নিজেদের মাঝে দেখতে চান নড়াইল এক্সপ্রেস।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সেরা দল বিষয়ক আলোচনা নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘সেরা দল, এইটা গুরুত্বপূর্ণ না। এশিয়া কাপে এই দল নিয়েই গিয়েছিলাম। ট্রফি জিততে পারিনি, সেরা দলই ছিলাম। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছিলাম। খুব আগের বিষয় না। এই দলই ছিল। এই হাইপ তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। দুই বছর আগে এই দলই খেলেছে। নতুন করে অনন্যসাধারণ এমন কিছু তাদের ভেতর আসেনি যে তারা এই মুহূর্তেই সেরা দল। সেরা দল সবসময় ভালো করে না। যারা মাঠে ভালো করে তারাই ভালো।’

মাশরাফি সবসময় ভাগ্যে বিশ্বাসী। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ জিততে হবে, সেমিফাইনালে উঠতে হবে এমন চাপ নেই দলের ওপর। তবে বিশ্বকাপে ভালো খেলতে মুখিয়ে আছে টাইগার শিবির।

গতকাল বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমি  সব সময় ভাগ্যে বিশ্বাসী। পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে সেটাই হবে। মেহনত করতে হবে। কষ্ট করতে হবে। সেটা করার জন্য প্রস্তুত কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সেরা টিম অনেক সময় বিশ্বকাপ জিতেনি।  সেরা দল আবার অনেক সময় সেমিফাইনালেও উঠেনি। আমাদের ওপরে এরকম  কোনো চাপ নেই যে আমাদেরকে বিশ্বকাপ জিতে আসতে হবে। কিংবা আমাদের সেমিফাইনালে উঠতে হবে। আমরা ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’

বিশ্বের বিখ্যাত ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও বিশ্বকাপে তাদের বড় কিছু অর্জনের সম্ভাবনার তালিকায় রাখেননি বাংলাদেশকে। মাশরাফি চান, ইংল্যান্ডে ভালো কিছু করে বাংলাদেশের প্রতি সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘পুরো বিশ্বের প্রাক্তন ক্রিকেটার, যারা টপ ক্রিকেটার ছিল বা যারা বিশ্লেষণ করে তাদেরকে যদি আপনি প্রশ্ন করেন, আমরা কখনোই ফেবারিট না। আমরা যদি এখানে কিছু করতে পারি তাহলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের নিয়ে পরিবর্তন হবে আরো বেশি। যেটা আাাগের থেকে অনেক হয়েছে। এটা অনেক বড় সুযোগ আমাদের জন্য। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই চাইব ভালো করি।’

অভিজ্ঞতা সাফল্যের নিশ্চয়তা নয় বলে উল্লেখ করেছেন মাশরাফি। মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়াটা বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনেক আছে বলে গত কয়েকবারের থেকে এবারের দলটাকে ভারসাম্যপূর্ণ বলা যায়। যারা জুনিয়র খেলোয়াড় আছে বেশিরভাগের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে।  এর মানে এই যে অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো টুর্নামেন্ট খেলা যাবে। অবশ্যই একতাবদ্ধ থাকতে হবে। একটা টুর্নামেন্টে নয়টা ম্যাচ খেলতে হবে। তার আগে আয়ারল্যান্ড সিরিজ আছে। নয়টা ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি আসবে।  সেগুলো সামলানোর জন্য মানসিকতা বেশি জরুরি। উত্থান-পতন থাকবে কিন্তু সামনের ম্যাচে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যাবে সেটা খুব জরুরি।