নতুন ভিসি নিয়োগেও সচল হচ্ছে না ইবি ক্যাম্পাস

অবশেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চার মাস পর সরকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম ইন্সটিটিউটের প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিমকে নিয়োগ দিয়েছে। এতে অনেকে চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক জানিয়েছেন—নতুন ভিসি নিয়োগেও সচল হবে না ক্যাম্পাস। ওই সব শিক্ষক জানান, ভিসি প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন, প্রোভিসি প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং ট্রেজারারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির যে অভিযোগ এনে আন্দোলনে নেমেছেন ক্যাম্পাসবাসী, সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতিতে প্রোভিসি ছিল এক ধাপ এগিয়ে। এছাড়া আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় অচল হওয়ার জন্য বই ক্রয়ে দুর্নীতি, গাড়ি ক্রয়ে অনিয়ম, একাডেমিকসহ নিয়োগ প্রকৃয়ায় সীমাহীন দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই প্রোভিসিই মূল হোতা। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। গতকাল শুক্রবার শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আ ছ ম তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় ঘোষণা দেয়া হয়। নিয়োগ-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রায় চার মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা শুরু হয়। দুই মাস ধরে ক্যাম্পাস অচল থাকার পর প্রশাসনের তিন কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থবাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়েছে অভিযোগ করে তাদের পদত্যাগের দাবিতে দুই মাস আগে থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে শিক্ষক সমিতি। ভিসির পদত্যাগ হলেও প্রোভিসি ও ট্রেজারারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবেন না, আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. কে এম সালেহ বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা সৃষ্টির মূল হোতা প্রোভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিনের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সুতরাং সবার আগে তাকেই পদত্যাগ করতে হবে।’ এদিকে নতুন ভিসি নিয়োগের পরও ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা না কাটার আশঙ্কায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন।