ক্ষমতায় যেতে অন্ধকার অলি-গলি খুঁজবেন না

++আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় মাথা পেতে মেনে নেবো ++খোলস পাল্টানো ব্যক্তিদের দলে নেবেন না ++অপশক্তি যুদ্ধাপরাধের বিচার রুখতে পারবে না আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারে থেকে আমরা কেমন কাজ করলাম তা জনগণই মূল্যায়ন করবে। আগামী নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে তা আওয়ামী লীগ মাথা পেতে নেবে। বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ আছে। কিন্তু জনগণের সামনে যাওয়ার সাহস তাদের নেই। তারা ক্ষমতায় যাবার জন্য অলি-গলি অন্ধকার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। শেখ হাসিনা হঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। তাদের ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার। ক্ষমতায় যেতে চাইলে ভোটের মাধ্যমে আসুন। আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের কতটুকু আস্থা তা ভোটে প্রমাণিত হবে। গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৯তম জাতীয় সম্মেলন-২০১২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা তার দলের প্রশংসা করে বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুসংহত দল। বারবার বিষয়টি প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৮১ সালে তার দেশে ফিরে দলের দায়িত্ব নেয়ার প্রসংগ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমি যখন দেশে ফিরি তখন দল বিভক্ত ছিল। নানা কোন্দলে জর্জরিত ছিল। সামরিক শাসনের মধ্যে মানুষের ভোটাধিকার ছিল না। এসব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সংখ্যাঘরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাঘরিষ্ঠ দল হলেও কিছু লোক খোলস পাল্টে আওয়ামী লীগে ঢুকে দলের বদনাম করছে। আবার কিছু লোক আছে সব সময় সরকারি দল করে। তাদের কারণে দলের বদনাম হয়। এদের থেকে সাবধান থাকার জন্য তিনি দলের তৃনমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। খোলস পাল্টানো ব্যক্তিদের দলে না নেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। গতবারের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা বলেছিলাম দেশকে স্বাবলম্বী করবো। দিনবদলের জন্য কাজ করবো। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বন্ধ করে আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে, ‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনবদলের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশকে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চেয়েছেন তাদের সম্পর্কে জনগণকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আর এজন্যই সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রীদের দুদক ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অতীতে এ ধরনের কোন নজির ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন মিলিয়ে স্থানীয় সরকারের মোট ৪৯ হাজার ৯৮টি নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। যার ফলে নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষ থেকে একটি অভিযোগও করা হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে। কারণ জনগণের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে এ বিচার করার। কোনো অপশক্তি এ বিচার রুখতে পারবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বানচালেরও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিচারের রায়ের দিন হরতালও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সে বিচার কেউ রুখতে পারেনি। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দূরে থাকুন। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের এ কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না। মানতে পারে না। কারণ এ ইস্যুতে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে যারা মরিয়া তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় যাতে মানুষ ভোট দেয় সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা জনগণের প্রতীক। এ প্রতীকে ভোট দিলে মানুষ কিছু পায়। এ প্রতীক মানুষের আস্থার দাম দিতে জানে। সংবিধান সমুন্নত রাখে। নৌকা মার্কার এ শুভযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন। শেখ হাসিনা তার লিখিত বক্তব্যে বিভিন্ন খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে, মহাজোটের পক্ষে, নৌকার পক্ষে বিপুল ম্যান্ডেট দেয়। এই রায়ের মাধ্যমে আমাদের প্রতি মানুষ বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটে। তিনি বলেন, ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ভোটারদের রায় পেলে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যেখানে প্রতিটি মানুষ সচ্ছল এবং সুন্দর জীবন পাবে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা এমন একটি উন্নত দেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে থাকবে না ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকার। তিনি বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আগামী ৬ জানুয়ারি সরকার পরিচালনায় আমাদের চার বছর পূর্ণ হবে। তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেয়া প্রতিটি ওয়াদা আমরা পালন করার চেষ্টা করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগঠন, আপনাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ জাতির সামনে দিনবদলের অঙ্গীকার করেছিল। আজ আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি দুর্নীতি, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অশিক্ষার অন্ধকারকে পেছনে ফেলে শিক্ষা, শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আলোকিত আগামীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জনগণের সেবা করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি ভোটার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে অর্ডিন্যান্স জারি করে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন করেছিলেন। যেসব স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীরা হত্যা-ধর্ষণ-লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচার শুরু হয়েছিল। গোলাম আযমসহ কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেরই নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ১১ হাজারেরও বেশি যুদ্ধাপরাধী কারাগারে আটক ছিল। ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়েই বাংলাদেশ জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু স্বাধীনতা দেননি, ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা নির্ধারণেও উদ্যোগ নেন। টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম আইন করেছিলেন। তখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আর কেউ এ আইন করেনি। এমনকি জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে এ আইন করে। জাতির পিতার সেই দূরদর্শিতার ধারাবাহিকতায় এবার আমরা আন্তর্জাতিক সমুদ্র ট্রাইবুন্যালে জিতে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৬৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পেয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারই ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত প্রটোকল স্বাক্ষর করে অপদখলীয় জায়গা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। যমুনা নদীর সেতু নির্মাণের জন্য জাপান সরকারের অনুদান সম্ভব হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের সময়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে কারচুপির নির্বাচনে জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। নির্বাচনের রাত থেকেই তারা শুরু করে আওয়ামী লীগ নিধন অভিযান। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। শুধুমাত্র নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে ভোলার চর অন্নদা প্রসাদ গ্রামে এক রাতে শতাধিক নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীর ভিটাবাড়ি কেটে পুকুর বানানো হয়। বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বরিশাল, নড়াইল, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশে হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, দখল, মামলা, হামলা ও নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে দুর্নীতি, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ লালনের উদ্দেশে। তাদের অপকর্মের কারণে বাংলাদেশ বারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। তার পুত্ররা আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারী হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছে। এর আগে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থলে এসে পৌঁছান সকাল সাড়ে ১১টায়। জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা মঞ্চের পাশে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সাড়ে ৬ হাজার কাউন্সিলর, ২০ হাজার ডেলিগেটসহ প্রায় ৩৫ হাজার লোকের ধারণক্ষমতার বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয় সম্মেলনের জন্য। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। দলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় প্রতীক নৌকা দিয়ে ভরে উঠে ওই অঞ্চল। তবে সবার নজর কেড়েছে নৌকার আদলে বানানো মঞ্চটি। এর এক পাশে পালের আকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর বৈঠার আদলে শেখ হাসিনার ছবি দেয়া হয়। মঞ্চের এক পাশে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান এবং অপর পাশে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদ শামসুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের ছবি টাংগানো হয়। মঞ্চে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন প্রবীণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে ওয়ান ইলিভেনের সময়কার কথিত সংস্কারবাদী নেতারা বসেন মঞ্চের সামনের প্রথম সারিতে। কিছু সংস্কারবাদী নেতাকে সম্মেলনস্থলে দেখা যায়নি। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বিরোধীদলীয় নেত্রী বা তার কোন প্রতিনিধি এতে যোগ দেননি। কয়েকজন কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা সম্মেলনে যোগ দেন। কিছু অব্যবস্থাপনাও চোখে পড়ে। জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলোতে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা বসে পড়েন। সম্মেলনে দলের সভানেত্রী এবং সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব পঠিত বলে গণ্য করতে বলা হলেও বক্তব্যের কপি সাংবাদিকসহ অনেককেই সরবরাহ করা হয়নি। শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে আসলে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের পর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সংসদ উপনেতা দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান। এতে বিগত তিন বছরে দলের প্রয়াত নেতা, বাংলাদেশের প্রবাসী বন্ধু, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপর শেখ হাসিনা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু নিয়ম রক্ষার সম্মেলন করছি না। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীকে মনে রাখতে হবে সম্মেলন হচ্ছে দলের প্রাণ। এর মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনের জন্য উজ্জীবিত হবেন। তিনি তার বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত এবং জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে বর্তমান অবস্থানে আসতে সহায়তা করেছেন তাদের আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, নাকি তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে। গণতন্ত্র থাকবে, নাকি দেশে স্বৈরতন্ত্র আসবে।