সেমিতে দাঁড়িয়ে ফাইনালে চোখ

বাংলাদেশ-মঙ্গোলিয়া মুখোমুখি আজ

সন্ধ্যা ৬টা, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার আক্রমণভাগের স্বপ্না এবং কৃষ্ণা দলে নেই। এ দুজনই গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচে গোল করেছিলেন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করার পেছনের কারিগর তারা। কিন্তু ইনজুরির কারণে এই দু’জনকে ছাড়াই আজ বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মঙ্গোলিয়ার মুখোমুখি হবে।

প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হোক না কেন বাংলাদেশের সানজিদা, মারজিয়া, রূপনা চাকমা, মনিকা, মারিয়া, আঁখীরা আজকের লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে ফাইনালে চোখ রেখেছে। এত দূর এসে তরী ডুবাতে চায় না বাংলাদেশের মেয়েরা। যত পরিশ্রম আর যত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে তার সবটুকু ঢেলে দিতে চান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

টুর্নামেন্টের শুরুটা হয়েছে প্রচণ্ড গরমে। অনুশীলনে মেয়েদের একটুও কমতি নেই। পরিশ্রমে ক্লান্ত হলেও মুখে সে কথা বলতে রাজি না। তাদের কথা হচ্ছে রণক্ষেত্রে ক্লান্তির কথা বলে কোনো লাভ নেই। ছয় জাতির এই টুর্নামেন্টের এখন শেষ ধাপের লড়াই। শেষটা সুন্দর করে গড়ে তুলতে চান মৌসুমীরা।

কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলছিলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ওঠা। মেয়েরা সেটা খুব ভালো ভাবেই করতে পেরেছে। আজকে সেমিফাইনাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলা। এটা নকআউট খেলা। মঙ্গোলিয়া খুবই ভালো দল। ভালোভাবে খেলেই সেমিফাইনালে এসেছে ওরা। গত দুই ম্যাচের মতো আজকেও আমার মেয়েরা ভালো খেলবে, ভালো খেলা উপহার দিবে, জয়ের জন্য মাঠে নামবে। ভুলত্রুটি যা হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আরো উন্নতি করবে।’

বাংলাদেশ কোচের কাছে মনে হচ্ছে কিরগিজস্তান, আরব আমিরাত এবং মঙ্গোলিয়া একই ধরনের দল। কিরগিজস্তান শারীরিক ফুটবল খেলে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা সেটা করেছে। তাদের শারীরিক শক্তিটা বেশি। আমিরাত ভালো খেলার চেষ্টা করেছে। মঙ্গোলিয়া ট্যাকটিকেল এবং টেকনিকেল দিক থেকে বাংলাদেশের কাছাকাছি।

মঙ্গোলিয়া বলছে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ শক্তিশালী কিন্তু তারা এটাকে থামাবে। তাদের জাপানি কোচ কাওয়ামোটো নাওকো হুংকার দিলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সব কিছু জানি। কিভাবে কি করতে হবে তা আমাদের জানা আছে।’

এ প্রসঙ্গে ছোটন বললেন, ‘এটা নিয়ে মোটেও শঙ্কিত নই আমরা। মঙ্গোলিয়ার কোচ এর আগেও আমাদের বিপক্ষে খেলেছিলেন। আড়াই বছর মালদ্বীপের কোচ ছিলেন। আমাদের খেলা সম্পর্কে তার ধারণা আছে। সে অনেক অভিজ্ঞ কোচ। এটা যেহেতু সেমিফাইনাল ম্যাচ, সে তো আমার টিম সম্পর্কে ভাববে এবং কৌশল সাজাবে। মঙ্গোলিয়ার দুটি ম্যাচ আমরা দেখে ফেলেছি, তাই আমাদেরও কিছু হোমওয়ার্ক হয়েছে।’

কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও নিজেদের ভুলে গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। কোচ ছোটন বলেন, ‘একজন কোচ হিসেবে আমি বলব ওই গোলের জন্য প্রথম ভুলটা ছিল মনিকার। মনিকার মাধ্যমেই পুরো টিম আক্রমণে যাচ্ছিল। তার কারণে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করার সুযোগটা পেয়েছিল কিরগিজস্তান। গোলকিপার রূপনা চাকমারও ভুল ছিল। সে বল ধরতে পারত কিংবা ফিস্ট করতে পারত।’

ছোটন জানিয়েছেন তাঁর দল সেমিফাইনালেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। কোচের দুশ্চিন্তা ফিনিশিং নিয়ে। কারণ আগের দুই ম্যাচে ফিনিশিংটা ভালো না হওয়ায় বেশি গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ। সুযোগ আসবে, সেগুলো শুধু কাজে লাগাতে হবে। ৯০ মিনিটে রেজাল্ট না হলে কি পরিকল্পনা?

কোচ বললেন, ‘অতিরিক্ত সময় এবং টাইব্রেকারের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। আশাকরি আমাদের সমস্যা হবে না।’