গৌরনদী গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজ
পড়াশোনার মান হ্রাস পাচ্ছে
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৩
আধুনিক ভবন গড়ে উঠলেও গৌরনদী গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজের পড়াশোনার মান দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে গৌরনদীর অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাফল্য অর্জন করলেও এখানে ঘটছে বিপর্যয়। এ কারণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম উত্কণ্ঠা।
জানা গেছে, চলতি এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় উক্ত কলেজ থেকে সর্বমোট ৩২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে মাত্র ৭০ জন শিক্ষার্থী সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়, বাকি ২৫৫ জন ফেল করে। তার পরেও কলেজ গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২ বিষয়ে অকৃতকার্যসহ মোট ২৪১ জন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হয়। বাকি ৮৪ জন শিক্ষার্থী ৩ থেকে ৬ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে গৌরনদী গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজের ওইসব শিক্ষার্থী। তারা গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ক্লাসে পাঠদান না করে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার নিয়ে ব্যস্ত। তাদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে তারা ইচ্ছা করে ছাত্রীদেরকে ফেল করায়। জানা গেছে, গত বছর অত্র কলেজ থেকে ২০১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ১০০ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। এ জন্য বরিশাল বোর্ড থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে শো-কজ করা হয়েছিল। এ কারণে আগামী এইচ এসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৪১ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ নিয়েও শংকিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার ফলাফলে যদি আগের বছরের ন্যায় বিপর্যয় ঘটে তাহলে কলেজটির এমপিও বাতিল হতে পারে বলেও শংকিত সবাই। এ কারণে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা ৮৪ জন ছাত্রীকে কোনক্রমেই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেবে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিভাবক ও স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট খারাপ হওয়ার জন্য শিক্ষকদের দায়ী করেন। ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণে সচেতন বাপ-মা তাদের মেয়েদের এখানে পড়াতে চান না। যারা ভর্তি করান তাদের কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে পরবর্তী সময়ে তাদের সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করতে বাধ্য হন।