রবিউলের বিধ্বংসী বোলিং নাটকীয়তার মধ্যেও ড্র হলো মিরপুরের ম্যাচ

দিনের শেষ সেশনের নাটকীয়তা দেখা দিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ও প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যকার খেলাটি উত্তেজনা ছড়িয়েও ড্র হয়ে যায়। তারপরও প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যাঞ্চলের সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চল এক পয়েন্ট পেয়েছে। রবিউল ইসলাম শিপলু এক ওভারে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে চাইলেও মধ্যাঞ্চলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মোশাররফ হোসেনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত হার থেকে বেঁচে যায় দল। গতকাল রবিবার বিসিএলের চতুর্থ ও শেষ দিনের অন্তিম সেশনে জয়ের জন্য মধ্যাঞ্চলের প্রয়োজন ছিল ১২৭ রান। তখনো ৩৮ ওভার বাকি। অথচ, প্রথম ওভারে শিপলুর ঝড়ে মধ্যাঞ্চলের চার টপ অর্ডার উড়ে যায়। এর মধ্যে ছিলেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুলও। প্রথম বলে দুই রান, দ্বিতীয় বলে আসিফ আহমেদ রাতুল এলবিডব্লিউ, তৃতীয় বল ডট, চতুর্থ বলে আশরাফুল বোল্ড, পঞ্চম বলে শামছুর রহমান বোল্ড, ষষ্ঠ বল নো, এবং ওভারের শেষ বলে শিপলু মেহরাব হোসেন জুনিয়রকে বোল্ড করে শুরুতেই চেপে ধরেন প্রতিপক্ষকে। পঞ্চম বলটি নো হওয়ায় হ্যাট্টিক বঞ্চিত হন শিপলু। ম্যাচ শেষে অবশ্য তিনি বলেন, ‘হতাশ নই, তবে ভালো বোলিং করেছি’। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া শিপলুর ভালো বোলিংয়ের কথা স্বীকার করেছেন মধ্যাঞ্চলের অধিনায়ক রিয়াদ। পাশাপাশি ম্যাচটি ড্র হওয়ায় আফসোসও রয়েছে তার কণ্ঠে। রিয়াদ বলেন, ‘শিপলু খুব ভালো বোলিং করেছে। তারপরও ম্যাচটি আমাদের জেতা উচিত ছিল। ৩৮ ওভারে ১২৭ রানের টার্গেট ছিল, এটা করাই যেত। একটু বুদ্ধি দিয়ে খেললে হয়তো ম্যাচটি জিততে পারতাম’। সব মিলিয়ে শিপলু এই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। তবে মধ্যাঞ্চলের টপ পাঁচ ব্যাটসম্যান ফিরে যাওয়ার পরও রিয়াদ যে মোশাররফকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের জন্য খেলছিলেন (৯৩/৬) তাতে বাদ সাধে আলো স্বল্পতা। এ কারণে শেষ আট ওভার খেলা হয়নি। শিপলু চারদিনের ক্রিকেটে এমন বিধ্বংসী সুইং বোলিং আরো করেছেন। ২০১০ সালে লর্ডসে টেস্ট খেলার পর জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারেননি এই পেসার। পাশাপাশি জাতীয় দলও খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি বলে শিপলুর সামনে সেরকমভাবে সুযোগ আসেনি। এ জন্য দুঃখ নেই তার। শিপলু বলেন, ‘লর্ডসে টেস্ট খেলার পর জাতীয় দলও প্রায় ১৩ মাস টেস্ট খেলেনি। এর মধ্যে আমি ‘এ’ দলের হয়ে খেলছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলাম; কিন্তু ভালো করতে পারিনি। জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও আমি দীর্ঘ পরিসর ক্রিকেটে ভালো বোলিং করছি’। প্রথম ইনিংসে শিপলু দুইটি উইকেট পেয়েছেন। কাল শুরুটা যেভাবে করেছিলেন শেষটা সেরকম হয়নি। রিয়াদ ও মোশাররফ উইকেটে আঁকড়ে ছিলেন। আফসোসটা লুকাননি শিপলু। তিনি বলেন, ‘প্রথম স্পেলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলাম; কিন্তু পরের দিকে হয়নি’। ইনিংসের শুরুতে কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের পরামর্শে বোলিং করেছিলেন শিপলু। এর ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। সেই কথাও বলেছেন শিপলু, ‘সুজন ভাই বলেছেন, স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বল করতে। ভালো বোলিং করেছি, সুইংও হয়েছে’। কাল দিনের প্রথম সেশনেও ছিল নাটকীয়তা, মোশাররফ ও শাহাদাত হোসেন রাজিবের বোলিংয়ের কারণে। আগের দিনের তোলা ১/৩১ নিয়ে খেলতে নেমে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে আসেন। লাঞ্চের মধ্যে পড়ে যায় সাত উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে বাকি তিন উইকেটও পড়ে গেলে ২১৬ রানে শেষ হয় দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে মধ্যাঞ্চলের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৭। প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চল এগিয়ে ছিল ৯০ রানে। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট ও প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৪৩ রান করায় ম্যাচ সেরা হন মোশাররফ হোসেন। বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হবে ২ জানুয়ারি। সংক্ষিপ্ত স্কোর প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ৩৪৩ ও ২১৬/১০ (তুষার ৬৫, রুবেল ৪৪, রাব্বি ২৬, মিথুন ১৯, সৌম্য ১৫, মোশাররফ ৪/৬৮, শাহাদাত ৩/৭২, সানি ২/৩৩)। ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ৪৩৩ ও ৯৩/৬ (রিয়াদ অপ: ৫০, মোশাররফ ১৬, রবিউল ৫/১৭)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোশাররফ হোসেন রুবেল (ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল) ফল: ম্যাচ ড্র পয়েন্ট: প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যাঞ্চল ৩, দক্ষিণাঞ্চল ১।