পিঁয়াজের ঝাঁজ দিয়ে শেষ হচ্ছে বছর

পিঁয়াজের ঝাঁজ দিয়েই শেষ হচ্ছে বছর। তবে শুধু পিঁয়াজই নয়, বছর জুড়েই অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজার ছিল অস্থির। এই তালিকায় আছে, আটা, ময়দা, মসুরসহ সব ধরনের ডাল, মাছ, মাংস, মশলা, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্য। এর মধ্যে কোন কোন পণ্য বছর ব্যবধানে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র হিসাবেই পিঁয়াজের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা। এসব নিয়ে বছর জুড়েই ক্রেতারা ছিল কখনো ক্ষুব্ধ, কখনো হতাশ। এ প্রসঙ্গে গতকাল কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা নেসারউদ্দিনকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, সব সময় দেখে এসেছি, শীত মৌসুমে সবজির দাম কম থাকে। কিন্তু এবার সব ধরনের সবজিই কেজি ৩০ টাকার উপরে। এখনই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে কি হবে? আশার কথা একটাই, স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের ভিতর আছে চাল। অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম গত বছরের তুলনায় এ বছর কমেছে। মোটা চাল প্রতি কেজিতে ২ টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। সবচেয়ে বেশি কমেছে সরু চালের দাম। গত বছর প্রতি কেজি সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট মানভেদে ৪০ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ৩৪ থেকে ৪৮ টাকায়। দাম কমার তালিকায় আরো আছে চিনি, সয়াবিন তেল, শুকনা মরিচ ও হলুদ। প্রতি কেজি চিনিতে ১৩ শতাংশ, শুকনা মরিচে ২০ শতাংশ ও হলুদে ৩৪ শতাংশ দাম কমেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়ে ৫৬ থেকে ৫৭ টাকায়। শুকনা মরিচ গত বছর বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। চলতি বছর তা ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। হলুদ গত বছরের তুলনায় কেজিতে ৬০ টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৪০ টাকায়। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজিতে ১২ থেকে ১৪ টাকা কমে চলতি বছর বিক্রি হচ্ছে ১১২ থেকে ১১৪ টাকায়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য পণ্যগুলোর দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মসুর ডালের দাম গড়ে বেড়েছে ৪০ শতাংশ। মানভেদে গত বছর প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৯৫ টাকায়। যা এ বছর বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ১৪২ টাকা কেজিতে। এ্যাংকর ডাল বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। প্রতি কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে চলতি বছর বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর আটার দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। মানভেদে গত বছর প্রতি কেজি আটা ২৬ থেকে ৩৩ টাকা বিক্রি হলেও এ বছর তা সর্বোচ্চ ৩৮ টাকায় ছাড়িয়ে যায়। ময়দার দামও বেড়েছে ৮ শতাংশ। দামবৃদ্ধির তালিকায় এক নম্বরে আছে পিঁয়াজ। গত বছর মানভেদে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ১৬ থেকে ২৪ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৭০ টাকায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির ঝাঁজে বছর শেষে রীতিমতো নাকাল ক্রেতারা। একই অবস্থা আটা ও রসুনের ক্ষেত্রেও। টিসিবির হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রতি কেজি রসুনে ৪১ শতাংশ ও আটা ২০ শতাংশ বেড়েছে। দামবৃদ্ধির তালিকায় আছে মাছ-মাংসও। প্রতি কেজি রুই মাছ গত বছর ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা ৩০০ টাকায় ছাড়িয়ে যায়। গত বছরের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে চলতি বছর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। বেড়েছে ডিমের দামও। এক বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। গত বছর খুচরা বাজারে ১ হালি ডিম বিক্রি হয় ২৬ থেকে ২৮ টাকায়। যা চলতি বছর ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।