শপথ ভঙ্গকারী বিচারকের কাছে নিরপেক্ষ বিচার আশা করা যায় না
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৪
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক শপথ ও আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। এমন বিচারকের কাছ থেকে নিরপেক্ষ বিচার আশা করা যায় না। স্কাইপে সংলাপ ও ই-মেইল কেলেংকারির পর বিচারপতি নিজামুল হক হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। পদত্যাগ না করলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক নিজামুল হককে অপসারণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদিন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, এডভোকেট তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নিজামুল হক আইন রীতি লংঘন করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের সাথে বৈঠক করেছেন এবং সরকারের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করে মামলার সময়সীমা নির্ধারণ ও সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক সংবিধানের অধীনে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে বিচার করার শপথ নিয়েছিলেন। সেই শপথ তিনি রাখতে পারেননি। তিনি শপথ ভঙ্গ করে যে ধরনের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আসামিদের বিরুদ্ধে যে ধরনের চক্রান্তমূলক ও প্রহসনের বিচার করতে যাচ্ছিলেন এজন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারপতি নিজামুল হককে সব ধরনের বিচারিক কাজ থেকে বিরত রাখার দাবি জানান তিনি। স্কাইপ সংলাপ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সারা বিশ্বে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি রক্ষায় তার পদত্যাগ করা উচিত। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে কারণে নিজামুল হক ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেছেন সে কারণেই তাকে হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত।
সমপ্রতি বেলজিয়াম প্রবাসী বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপ সংলাপের খবর প্রকাশের পর গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন বিচারপতি নিজামুল হক। পরে তিনি হাইকোর্টের বিচারকের দায়িত্বে ফিরে গেছেন।