কর্কট রাশি

Cancer [ জুন ২১-জুলাই ২২ ] শাসক গ্রহ :চন্দ্র। সংখ্যা :২। বৈশিষ্ট্য :পানি। রং :হালকা সবুজ, ক্রিম, কমলা ও সাদা। ধাতু :রুপা ও প্লাটিনাম। রত্ন :পান্না, মুন্না ও মুনস্টোন। দিন :সোমবার। কর্কট ব্যক্তিত্ব জ্যোতি বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বাদশাহ হোসেন, জাঁ পল সার্ত্রে, পাবলো নেরুদা, পার্ল এস বাক, সল বোলো, ড. মো. শহীদুল্লাহ, সুনীল গাভাস্কার, আবদুল্লাহ্ আল-মামুন. কাজী আনোয়ার হোসেন। জে নে নি ন আ প নি কে ম ন ক র্ক ট ? গ্রামে কিংবা শহর থেকে দূরে কোনো নিরিবিলিতে পরিষ্কার আকাশের নিচে চাঁদের আলো উপভোগ করার অনেক উদাহরণ দেখা যায় কর্কটদের মাঝে। তবে খেয়াল রাখুন এই ঠাণ্ডায় চাঁদের আলো উপভোগ করতে গিয়ে শরীর খারাপ করে ফেলবেন না। কর্কটদের অবশ্যা পেটের ব্যামোই একটু বেশি ভোগায়। আর জলীয় রাশি হিসেবে তারা জলের কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসে। কর্কটের হাসি পাগল করা। আর এ হাসি অদম্যভাবে সংক্রামক। কর্কট যখন পার্টির কেন্দ্র হওয়ার ভাবাবেগে থাকে, তখন আপনাকে চিনে নেওয়া যায় সহজে। পার্টিতে কর্কটই হয় সবচেয়ে মজার। জীবনকে পুরোপুরি উপভোগের সবগুলো পথ বুঝি কর্কটই সবচেয়ে ভালো জানে। অন্য কোনো রাশিই কর্কটের মতো এতটা কৌতুকপ্রিয় নয়। আর তার শান্ত, সুবোধ বহিরাবরণ ভেদ করে মজার মানুষটা যদি একবার দুঃসাহসিকভাবে জেগে ওঠে তাহলে তো কথাই নেই। চন্দ্রীয় রসিকতাবোধ সব সময়ই গভীর। এটা কখনই সস্তা কিংবা অতিরঞ্জিত নয়, কেননা মানুষের আচরণের সূক্ষ্মতম পর্যবেক্ষণ করে তবেই এই রসিকতা তারা করে। যদিও কর্কটকে প্রথম দেখাতে মনে হতে পারে সে আর ১০ জনের মতো সবার সাথে গা ভাসাতে চায়, কিন্তু আসলে গোপনে গোপনে কর্কট মনোযোগ প্রত্যাশা করে। আর শিরোনাম হওয়ার সুযোগটাও ঠিকই লুফে নিতে চায়। কারও যদি সহজেই ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে বিষণ্ন মেজাজের কোনো কর্কটের কাছে যাওয়ার আগে তার মলিনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটা রেইনকোট পরে নিন। কর্কট আপনাকে শোকের ভেজা কম্বলে জড়িয়ে ফেলবে আর সেটার মধ্যেই আটকে রাখবে যতক্ষণ না আপনি শীতে কাঁপতে শুরু না করেন। কর্কটের বিষণ্নতা খুবই গভীর। এই রাশির জাতক-জাতিকারা চাইলেই কাউকে এতই বিষাদে নিমজ্জিত করতে পারে যতটা বিষাদ সমুদ্রের তলদেশেও বুঝি পাওয়া বিরল। কর্কট তার স্বাভাবিক ভয়-ভীতিগুলো তার দুষ্টুমিভরা পাগলামি আর কৌতুক দিয়ে আচ্ছাদিত করে রাখে। কিন্তু তারপরও সেই ভয়গুলো দিনে কি রাতে তার মনের মধ্যে অনর্থক কোনো আশঙ্কা কিংবা নামহীন বিপদের শঙ্কা হয়ে ছায়ার মধ্যে জেগে থাকে। কর্কটরাই পারে কল্পনার মাধুরী মিশিয়ে সবচেয়ে সুন্দর কোনো স্বপ্ন নিয়ে তারাদের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে। প্রত্যেক কর্কটেরই অভিব্যক্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে একটা বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে। আলাপচারিতার সময় তাদের মুখের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত যেন হাজার ধরনের অভিব্যক্তি খেলে যায়। আর কল্পনার উপর কর্কটদের নিয়ন্ত্রণ এতই মাধুর্যময় আর তাদের ভাবাবেগও এতই তীব্র যে তারা আপনাকেও কল্পনার জগতটা দেখিয়ে দিতে পারবে। তাদের কল্পনাজুড়ে থাকে সুখ-দুঃখ, ভয়, সহানুভূতি, আনন্দ আর যন্ত্রণা। তার দ্রুত স্মৃতিচারণক্ষম মস্তিষ্ক এই সব অনুভূতিগুলো সহজেই খুঁজে নেয়। আয়না কিংবা ক্যামেরার মতোই তারা ছবিগুলোকে সঠিকভাবে মনের মধ্যে ধরে রাখে আর বিশ্বস্তভাবে সেগুলো উপস্থাপন করে। জীবন তাদেরকে যা কিছু শিখিয়েছে, কিংবা ইতিহাস মানবজাতিকে যা কিছু শিখিয়েছে তার কোনোটাই তারা ক্ষণিকের জন্য বিস্মৃত হয় না। একজন কর্কট তার অতীতকে পোষণ করে, আর তারা সাধারণত খুবই গভীরভাবে দেশপ্রেমিক। ঐতিহাসিক ব্যক্তিরা তার মনকে ততটাই আন্দোলিত করে যতটা করে তার পূর্ব পুরুষেরা। প্রাচীন বস্তু, পুরোনো গুপ্তধন, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও গত দিনগুলোর প্রতি তার একটা অদম্য কৌতূহল রয়েছে। কর্কটেরা প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতো মানসিকতার গভীর থেকে গভীর পর্যন্ত শুধু অদ্ভুত সুন্দর সবকিছু খুঁজে চলে। সৈকতে অযত্নে ফেলে যাওয়া পান্না, মণি-মুক্তা আর অন্যান্য রত্ন কর্কটেরা যত্ন এবং ধৈর্য সহকারে কুড়িয়ে নেয় আর আশায় থাকে কখন সমুদ্র তার রুপালি স্বপ্নটাকে ঢেউয়ে ঢেউয়ে সৈকতে ভাসিয়ে আনবে। বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ১ ৩ কর্কট রাশির শাসকগ্রহ চন্দ্র। চন্দ্র জাতক/জাতিকাকে সৃজনশীলতা দেয়। চন্দ্রের প্রভাবে কর্কটের জাতক/জাতিকারা কিছুটা কল্পনা প্রবণ হয়। কর্কটরাশির জাতক/জাতিকার জন্য বছরটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। এ বছর শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। হেপাটাইটিস, জন্ডিস, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি ব্যাধিতে ভুগতে পারেন। ঠাণ্ডা ও ধুলাবালি থেকে সর্তক থাকুন। অন্যথায় যেকোনো ধরনের এলার্জিতে আক্রান্ত হতে পারেন। পেটের পীড়াতে ভোগার আশঙ্কা আছে। আর্থিক দিক মোটামুটি ভালো যাবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাফল্যের সম্ভাবনা আছে। চাকরিজীবীদের জন্য সময়টা খুব একটা অনুকূল নাও যেতে পারে। শনির দৃষ্টির ফলে কর্মস্থলে বাধা-বিপত্তি ও ঝুট-ঝামেলা দেখা দিতে পারে। বছরের প্রথম দিকে এ ব্যাপারে সর্তক থাকার চেষ্টা করুন। পরিশ্রমের চেয়ে বুদ্ধি ও কৌশল প্রয়োগ করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করুন। সাফল্য আসবে। ঠিকাদারি, আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা, রাসায়নিক দ্রব্য ও জনসম্পৃক্ত ব্যবসায় সাফল্য পাবেন। স্বর্ণ, রৌপ্য, বস্ত্র, সুতা এবং কৃষি পণ্যের ব্যবসায়ীরা সর্তক থাকুন। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। পারিবারিক পরিবেশ খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। মাঝে মাঝে দাম্পত্য কলহে জড়াতে পারেন। বাবা-মা বা আপনজন কারও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় উদ্বিগ্ন বোধ করবেন। তাদের চিকিত্সার জন্য ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। এ বছর নতুন সন্তান লাভের প্রবল যোগ রয়েছে। নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তান লাভের জন্য বছরটি অনুকূল হবে। বিদ্যার্থীদের জন্য বছরটি সম্ভাবনাময়। পরিশ্রম এবং নিয়মিত পড়াশোনা আপনাকে সাফল্য এনে দিতে পারে। প্রেমের ব্যাপারেও বছরটি শুভ। উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রার প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। তীর্থ যাত্রায় দীর্ঘ প্রতীক্ষা এ বছর পূর্ণতা পেতে পারে। তবে ভ্রমণকালীন সময়ে শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সর্তক থাকার চেষ্টা করবেন। সৃজনশীল কাজকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বছরটি শুভ। এ বছর শিল্প-সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাফল্য আসতে পারে। এ ধরনের কোনো কাজের জন্য পুরস্কৃত বা সম্মানীত হতে পারেন। অন্যান্য দিক মোটামুটি ভালো যাবে।