ধনু রাশি
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৭
Sagittarius
[ নভেম্বর ২২-ডিসেম্বর ২১ ]
শাসক গ্রহ :বৃহস্পতি।
সংখ্যা :৩।
রং :আকাশি, নীল, বেগুনী, ক্রিম।
রত্ন :এমিথিস্ট, পোখরাজ।
ধাতু :রুপা, প্লাটিনাম।
দিন :বৃহস্পতিবার।
ধনু ব্যক্তিত্ব
আলবার্তো মোরাভিয়া, টমাস কার্লাইল, বিটোফেন, ব্রেজনেভ, মার্ক টোয়েন, উইনস্টন চার্চিল, কামরুল হাসান, টিপু সুলতান, জগদীশ চন্দ্র বসু, জাঁ লুক গদার, মোহাম্মদ এনামুল হক।
জে নে নি ন আ প নি কে ম ন ধ নু ?
যেকোনো পার্টিতে যান, এবং সেখানে সবচেয়ে প্রাণবন্ত দলটিকে লক্ষ্য করুন। হাসি খুশি এবং আনন্দে আপ্লুত যে মানুষটি ওখানে বসে আছে, সে একজন ধনু এবং সে একটু আগেই এমন একটি কথা বলেছে যে সবাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কী ঘটেছে তা সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। যখন সে তার বক্তব্য নিয়ে ঘটিত স্তব্ধতার কারণ অনুধাবন করতে পারবে তখন অবশ্য তাকে কিছুটা হতভম্ব মনে হবে এবং দলটিতে তার চারপাশের মানুষগুলোকে দেখে মনে হবে যেন তারা এক একটি ধারালো ছুরির ফলা।
মুখে একটা প্রফুল্ল হাসি এনে ধনু এমন একটা মন্তব্যে করে বসতে পারে যা কেউ কল্পনাও করেননি। সেক্ষেত্রে ধনুর বন্ধুদেরকে বলছি, নিজের মেজাজ ঠাণ্ডা রাখুন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু ভাববেন না সে আসলেই কাউকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিতে চায়। না, মনের ভেতরে তার আপনার জন্য একটা যত্নের জায়গা তৈরি আছে। বিষয় হলো ধনুদের মধ্যে জটিলতা কিংবা ক্ষুদ্রতার ছিটে ফোঁটা মাত্র নেই। সে নিষ্কলুষভাবে তার কষ্টদায়ক কথাগুলো বলে ফেলে। সে যে কাটা ঘায়ে নুনের ছেটা দিতেও ছাড়ে না, সেটা আসলে ঘা সারাতে গিয়েও তার অদক্ষতাই তুলে ধরে। ধনু মনে করেন পৃথিবীতে তারাই সবচেয়ে বেশি কুটনৈতিক বা কুশলী মানুষ। তারা সব সময়ই বলবে যে, ‘নাহ, আমি কোনো কারণেই অন্য কারও মনে কষ্ট দিই না। আমি এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক। বস্তুত, তারা যা কিছু করে সবই সততার সাথেই করে। ভান-ভণিতা সব সময় তাদের চরম অপছন্দের বিষয়।
একটা বক্তব্যের যথার্থতা উদ্দেশ্য করতে গিয়ে ধনু হয়তো তার হাতটাকে নাড়িয়ে বোঝাতে উদ্যত হলো, আর অমনি কেচাপ-এর বোতলটা ঠাস করে মাটিতে পড়ে ফেটে চৌচির। সে মাথা উঁচু করে সম্মুখে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে আর অমনি একটা পাথরে পা লেগে হোঁচট খেয়ে পড়বে। একই সময়ে তার ব্রিফকেসটা ঝট করে খুলে গিয়ে ভেতরের যাবতীয় কাগজপত্র রাস্তায় ছড়িয়ে একাকার। জুপিটার নিয়ন্ত্রিত ধনুর দৃষ্টি চড়ুইয়ের দৃষ্টিশক্তির মতোই প্রখর এবং উজ্জ্বল। ধনুরা সাধারণত অস্থির প্রকৃতির। তারা এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়াতে বা বসতে ঘৃণাবোধ করে। ধনুরা অপ্রত্যাশিতভাবে শারীরিক দিক দিয়ে আকর্ষণীয়। এবং তাদের আকর্ষণের মূল হেতুটা হয়তো তাদের গতানুগতিক আচরণ এবং জীবন যাপনের বিরুদ্ধে তার অশ্রদ্ধা এবং স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস। সে এমনভাবে হাঁটে যে মনে হয় সে সত্যিই কোথাও যাচ্ছে। তার চলনে কোনো থেমে দাঁড়ানো নেই কিংবা দ্বিধাও নেই।
অল্পকিছু মানুষই ধনুর উপর বেশি সময় ধরে বিরক্ত হয়ে থাকতে পারে। কেননা এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে তাদের মধ্যে কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য একদমই নেই। এই পূজনীয়, পছন্দনীয়, বুদ্ধিমান আদর্শবাদীকে আপনি যেকোনো সময় যেকোনো খানেই পেতে পারেন। অধিকাংশ ধনুই আন্তরিকভাবে চায় যে আপনি প্রাণবন্ত হয়ে উঠুন। অন্তত, এটাই তারা করতে চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের সদিচ্ছাকে ফলাতে গিয়ে প্রায়ই তারা অঘটন ঘটিয়ে বসে। বহির্মুখীই হোক কিংবা আত্মকেন্দ্রিক, ধনুরা সব সময়ই হূদয়কে উদ্দীপ্ত করতে পছন্দ করে। সেই সব দুর্লভ কিছু ধনু যারা তেমন একটা কথাবার্তা বলে না, তারা হয়তো মনে মনে এমন চমত্কার কোনো পরিকল্পনা করছে যেটা বিশ্বকে চমকে দিতে পারে। তার জিহ্বা যখন স্থির তখন তার মস্তিষ্ক আরও ব্যস্ত। আর এই রাশির প্রভাব পুরোটাই অজ্ঞাতে তার স্বভাবের মধ্যে রয়ে গেছে। ফলত তার নির্বাক থাকাটা বরং তার পরবর্তী চমকপ্রদ পদক্ষেপ দিয়ে আপনাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই। একজন ধনু কখনই সফলভাবে মিথ্যা বলতে সক্ষম নয়। কেউই তাকে এক মিনিটের জন্যও বিশ্বাস করে না। প্রতারণা ধনুদের স্বভাবে নেই, কিন্তু যখন তারা প্রতারণামূলক কিছু করতে যায়, তখন সহজেই সেটা প্রকাশ হয়ে পড়ে। একজন ধনু যখন সরাসরি তার লক্ষ্যে দৃষ্টি দেয়, তখন সে এতটাই উঁচুতে তার তীর ছুড়তে পারে, যেখানে মানুষের দৃষ্টিশক্তি পৌঁছতে পারে না। সেখানেই তার স্বপ্নগুলো সব সত্যি হয়ে যায়।
বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ১ ৩
অগ্নিরাশি ধনুর শাসকগ্রহ বৃহস্পতি। বৃহস্পতির প্রভাবে জ্ঞানচর্চা, উন্নত মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি এদের জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়ায়। ধনু রাশির জাতক/জাতিকার জন্য আর্থিক দিক কিছুটা জটিল ও দুর্যোগপূর্ণ হতে পারে। একাদশে তুঙ্গী শনি আয়ের ক্ষেত্রগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে। তবে বৃহস্পতির দৃষ্টি থাকার ফলে মে মাসের পরে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। ব্যাংক, বীমা বা শিক্ষার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বছরটি শুভ। বন্ধু কিংবা কোনো আত্মীয় এ বছর আপনার সাথে শত্রুতা করতে পারে। শত্রুদের চিনে উঠা কঠিন হতে পারে। তাদের কারও দ্বারা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাও আছে।
এ বছর শরীর খুব একটা ভালো যাবে না। মাথা ব্যথা, চোখের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমের গোলমাল, হূদরোগ প্রভৃতি যেকোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারেন। সুতরাং বছরের শুরুতেই এ ব্যাপারে সর্তক হওয়ার চেষ্টা করুন। ডায়াবেটিস এবং শ্লেষ্মা জাতীয় রোগ থেকে সর্তক হওয়ার চেষ্টা করুন। অন্যায় সহ্য করতে পারেন না বলেই মাঝেমধ্যে অশান্তি দেখা দিতে পারে। যথেষ্ট দৃঢ়চেতা হওয়া সত্ত্বেও স্নেহ-মমতার প্রতি আপনার দুর্বলতা অপরিসীম। অনেকে এ দুর্বলতার সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে। অপ্রিয় সত্য বলার জন্য শত্রু সৃষ্টি হবে। দাম্পত্য দিক খুব একটা ভালো যাবে না। মাঝে মাঝে মন কষাকষির সৃষ্টি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আপসমূলক মনোভাব গ্রহণ করাই উত্তম।
বিদ্যার্থীদের জন্য বছরটা খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। পঞ্চমে কেতুর অবস্থিতি এবং শনির দৃষ্টির ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দ্বাদশে বৃহস্পতির দৃষ্টি আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রেমের ব্যাপারে ভুল বুঝাবুঝির সম্মুখীন হবেন। কোনো সন্তানের সাফল্যে গর্ববোধ করতে পারেন।
ছোট ভাই-বোনদের সাথে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। বড় ভাই-বোনদের সাথেও সর্ম্পক খুব একটা ভালো যাবে না। পারিবারিক জমিজমা অথবা অন্য কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হতে পারে। কর্মহীনদের কর্মসংস্থানের প্রচেষ্টায় অপ্রত্যাশিতভাবে হঠাত্ কোনো সাফল্য আসতে পারে। বিপরীত লিঙ্গের কারও জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যান্য দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।