মীন রাশি
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৮
Pisces
[ ফেব্রুয়ারি ১৯-মার্চ ২০ ]
শাসক গ্রহ :বৃহস্পতি ও নেপচুন।
সংখ্যা :৩ ও ৭।
বৈশিষ্ট্য :পানি।
রং :ক্যাটস আই ও অ্যাকুয়ামেরিন।
ধাতু :রুপা।
দিন :বৃহস্পতি ও সোমবার।
মীন ব্যক্তিত্ব
আলবার্ট আইনস্টাইন, জন স্টাইনবেক, ভিক্টর হুগো, ইউরি গ্যাগারিন, বব ফিশার, সম্রাট হুমায়ুন, গ্রাহাম বেল, ইবসেন, আল্লামা ইকবাল, জাদুকর পিসি সরকার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জে নে নি ন আ প নি কে ম ন মী ন ?
অন্য রাশিগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত একটি জটিল রাশি। মীনের স্বভাবে অন্যান্য রাশিগুলোর বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ থাকে, আর সেটা বহন করা একজন মীন জাতকের পক্ষে যথেষ্ট কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যত বেশি শৈল্পিক ও সৃষ্টিশীল পরিবেশ হবে, এবং যত বেশি অবসর এবং দুর্বোধ্য পরিবেশ হবে তত বেশি মীনকে এমন স্থানে খুঁজে পাওয়া যাবে। বিয়ের সূত্রে কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে না পেলে মীনদের মধ্যে কাড়ি কাড়ি টাকাওয়ালা মানুষ তেমন একটা নেই। তাই বলে টাকার বিরুদ্ধে তাদের কোনো ক্ষোভ নেই। আর দশটা রাশির মানুষরা যাকে পুরোনো কয়েন হিসেবে বিবেচনা করেন, মীন সেগুলো আনন্দ সহকারে গ্রহণ করে নিজের কাছে স্বযত্নে সাজিয়ে রাখবে।
নেপচুনসুলভ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যেকোনো হূদয় সাধারণত লোভহীন হয়। মীনও তার ব্যাতিক্রম নয়। তাদের মধ্যে তীব্রতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এরা ভবিষ্যতের ব্যাপারে পুরোপুরি পরোয়াহীন হয়। আশপাশের সবাই যখন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে ফ্ল্যাটের দাম কমলো কী বাড়লো সেই চিন্তাতে অধীর, মীন হয়তো তখন ভাবছেন নিজের পছন্দের কোনো পারফিউম একটা এক্সট্রা কিনে রাখবার কথা। বর্তমানকে ঠাণ্ডা মাথায় মেনে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। স্রোত বেয়ে উপরে উঠার যুদ্ধটা সত্যিকার মাছ কিংবা আমাদের মীন উভয়ের জন্যই কষ্টকর। তাদের জন্য অনেক সহজ বরং স্রোত যেদিকে তাকে বয়ে নিয়ে যায় সেদিকেই ভেসে যাওয়া। কিন্তু উজানের দিকে যাওয়াটাই মীনদের পথে একমাত্র চ্যালেঞ্জ এবং সত্যিকার শান্তি ও সুখ অর্জনের একমাত্র পথ।
মীনদের আচরণ ও অলসতাপূর্ণ ভালোমানুষীর কারণে এরা সবাই খুব দ্রুত সবার প্রিয় মানুষটি হয়ে উঠেন। নিজেদের স্বপ্ন এবং জীবন যাপনের ব্যাপারে নিজস্ব স্টাইলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছাড়া অন্য সব বাধার ব্যাপারেই তারা খুবই নির্লিপ্ত। অপমান, অপবাদ, ঝগড়া-বিবাদ এসব ব্যাপারেও তারা একেবারেই ভাবলেশহীন।
তাই বলে মীন যে একেবারে নিরীহ তাও নয়। তারও মেজাজ আছে। কোনোভাবে তার রাগ চড়ে গেলে, সে তীব্র আচরণ করতে পারবে এবং চতুরভাবে বিদ্রুপাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তবে মীনের তেমন একটা বিবাদের মধ্যে যায় না। মীনদেরকে রাগানো করা আর একটা শান্ত লেকের মাঝে ঢিল ছুড়ে ফেলা একই ব্যাপার। লেকের জলে সেটা কিছু রিপলের জন্ম দেবে ঠিকই, কিন্তু দ্রুতই সেটা আবার শান্ত আর স্থির হয়ে উঠবে। মীনদের চোখ সব সময় টলমলে, তাদের পাপড়ি ঘন এবং মনে হয় যেন তাদের চোখ দিয়ে অনেক আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। তাদের চোখ সাধারণত গোলাকৃতি এবং খুবই আকর্ষণীয় হয়।
ঠাণ্ডা পানির প্রতি তার আকর্ষণ থাকতে পারে, দিনে কম করেও বারো কাপ চা কিংবা কফি, অথবা পেপসি বা আরসি কোলা, কিংবা আরও ভারি কোনো পানীয়ের প্রতি তার লোভ থাকতে পারে। তবে বিপদে কিংবা দুশ্চিন্তার সময় অনেক মীনই পানীয়ের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করে। পানীয় তাদের মধ্যে নিরাপত্তা জাগাতে সক্ষম হবে এই মিথ্যে আশায় তারা পানীয়ের প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করে। আর এই আকর্ষণ সত্যিই বিপজ্জনক।
চোখে রঙিন চশমা পড়ে পৃথিবীটাকে দেখার জন্যেই মীনদের জন্ম। জীবনের নিষ্ঠুর দিকটি মীন জানেন তাই সে নিজের তরল, শান্ত পৃথিবীতেই বাস করতে ভালোবাসে যেখানে সবকিছু সুন্দর এবং আনন্দদায়ক। জীবন কখনও তাকে চরম ব্যর্থতার স্তব্ধ নদীতে ছুড়ে ফেলে দিলেও, নিজেকে এই তীব্র বিপদ থেকে মুক্ত করার কোনো চেষ্টাই সে করে না। বরং নিজের ম্লান সবুজ ঘোরের মধ্যে ডুবে যায় যাতে বাস্তব জীবন নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবার কষ্টটি তাকে করতে না হয়।
মীনেরা যখন ভাবে যে কিছু একটা ঘটবে, তখন সাধারণত সেটা ঘটে যায়। সে যদি কাউকে পরামর্শ দেয় যে প্লেনে কিংবা গাড়িতে ভ্রমণ করার দরকার নেই, তাহলে ভালো হবে যদি হেঁটে যাওয়া।
বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ১ ৩
জলজ রাশি মীনের শাসকগ্রহ প্রাচ্যমতে বৃহস্পতি এবং পাশ্চাত্য মতে নেচপুন। দুটো গ্রহের প্রভাবই এ রাশিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বৃহস্পতির প্রভাবে এরা উন্নতমনা এবং বিশাল হূদয়ের অধিকারী হয়। নেপচুনের প্রভাবে জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মীনের জাতক/জাতিকা ভুল বুঝাবুঝির শিকার হয়। বছরের শুরুতেই ইউরেনাস মীন রাশিতে অবস্থান করছে। অষ্টমে শনি এবং রাহু রয়েছে। সপ্তমে রাহুর দৃষ্টি আছে। ফলে অপ্রত্যাশিত কোনো কারণে দাম্পত্য ক্ষেত্রে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। মীনের জাতক/জাতিকার দাম্পত্য জীবন এ বছর খুব একটা সুখকর নাও হতে পারে। তারপরেও আপনার বিপরীতে যিনি অবস্থান করছেন (স্বামী/স্ত্রী) তার অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য আপনাদের সর্ম্পক টিকে থাকবে বলে আশা করা যায়।
শরীর স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে। কিন্তু যদি কোনো কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে বড় ধরনের কোনো সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অসুস্থতাকে অবহেলা না করে যথাযথ চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। চাকরিজীবীদের জন্য বছরটি শুভ। চাকরিক্ষেত্রে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। বন্ধু ও সহকর্মীদের সহযোগিতা পাবেন। পদস্থ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আপনার প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শন করবে বলে আশা করা যায়। ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ কেউ যে শত্রুতা করবে না এমনটা ভাবা ঠিক হবে না।
ব্যবসায়ীদের জন্য বছরটি শুভ। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে আত্ম-প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবেন। কর্মস্থলে সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধির যোগ আছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হবে এবং বিক্রয় বাণিজ্যে লাভ যোগ আছে। অংশীদারী ব্যবসায় না জড়ানোই আপনার জন্য ভালো। পরিবহন ব্যবসাকে আপনার পরিহার করা উচিত। পানির সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায় আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা সমধিক। চিকিত্সা পেশার সাথে যারা জড়িত তাদের জন্য বছরটি খুব শুভ। খ্যাতি এবং অর্থ দুটোই আসতে পারে। শুধু লক্ষ্য রাখবেন নিজেকে যেন নিজেই দুর্বোধ্য করে না তোলেন। কাজকর্ম অথবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য এ বছর একাধিকবার বিদেশ যাত্রা হতে পারে।
মীন রাশির কয়েকজন উল্লেখযোগ্য জাতক/জাতিকা :রাজা ছত্রপতি শিবাজী, স্থপতি লুইকান, অভিনেতা সোহেল রানা, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ, জাদুকর পিসি সরকার, বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, গায়ক তালাত মাহমুদ, কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, জর্জ হ্যারিসন, ভিক্টর হুগো, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ, ওস্তাদ মোবারক হোসেন খান, সাংবাদিক এবিএম মুসা, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ সিরাজ উদ্দীন হোসেন, সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।