জা তী য় ও আ ন্ত র্জা তি ক প রি স্থি তি কে ম ন যা বে ?
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৮
বছরের প্রারম্ভে শনি ও বৃহস্পতি যথাক্রমে তুলা ও বৃষ রাশিতে অবস্থান করছে। শনি সারা বছর তুলাতেই থাকবে। বৃহস্পতি জুন মাসের শুরুতে মিথুন রাশিতে প্রবেশ করবে। ইউরেনাস ও নেপচুন অবস্থান করবে যথাক্রমে জলজ রাশি মীন এবং বায়ু রাশি কুম্ভে। এই দুটি গ্রহ সারা বছরেই একই রাশিতে অবস্থান করবে। মঙ্গল মৃত্তিকা রাশি মকরে অবস্থান করলেও প্রতি দেড় মাস অন্তর বামাবর্তে অগ্রসর হয়ে একেক রাশি অতিক্রম করবে। রাহু ও কেতু সারা বছরেই যথাক্রমে তুলা ও মেষ রাশিতে অবস্থান করবে। রাশি চক্রের প্রধান গ্রহগুলোর উপরোক্ত অবস্থানের ফলে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ বিশ্ববাসীর জন্য কিছুটা অশুভ ও দুর্যোগপূর্ণ হতে পারে। তবে অনেক ভালো কিছুও এ বছর ঘটবে বলে আশা করা যায়। সেদিক থেকে বছরটিকে মিশ্র সম্ভাবনাময় বলাই শ্রেয়। বছরের শুরুতেই মঙ্গল মৃত্তিকা রাশি মকরে তুঙ্গী থাকবে। ফলে পৃথিবীর নানা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাস, সহিংসতা প্রভৃতি বিরাজ করবে। সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর মানবতাবিরোধী সহিংস তত্পরতা বৃদ্ধি পাবে। মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশসহ প্রাচ্য-প্রতীচ্যের অনেক দেশেই সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও রাশিয়াতে সাধারণ মানুষের ভেতরে সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার নানা দেশে বর্ণবাদী দাঙ্গা দেখা দিতে পারে। সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ কোনো কোনো দেশে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। পরাশক্তিসমূহের উস্কানি এ ক্ষেত্রে আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করবে। তথাকথিত আরব বসন্তের উস্কানিদাতাদের জন্য বিষয়টি বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলজ রাশি মীনে এবং বায়ু রাশি কুম্ভে ইউরেনাস ও নেপচুনের অবস্থানের ফলে জলে ও অন্তরীক্ষের নানা অপ্রত্যাশিত রহস্যজনক ঘটনাবলি ঘটতে পারে। ঝড়, জল্লোচ্ছ্বাস, সুনামি, ভূমিকম্প, ভূমি ধস প্রভৃতির ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর সম্পদ ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। বিশ্বের একাধিক বরেণ্য রাজনীতিক বা রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যু অথবা ক্ষমতাচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে। একাধিক বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মহাকাশ সংক্রান্ত গবেষণায় নতুন কোনো সাফল্য আসতে পারে। বৃহত্ শক্তিসমূহ এবং ইসরাইল, ইরান, উত্তর কোরিয়া প্রভৃতি দেশে নতুন যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কোনো যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চিকিত্সা বিজ্ঞানে নতুন কোনো আবিষ্কার বা উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী চমক সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের সর্বত্র বিগত দুই বছরে যে অর্থনৈতিক মন্দা গেছে সেটা এ বছর ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে পারে। নিচে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশসমূহের ২০১৩ সালের শুভাশুভ পূর্বাভাস দেওয়া হলো—
বাংলাদেশ
সামগ্রিকভাবে বছরটি বাংলাদেশের জন্য শুভ। রাজনৈতিক গোলযোগ আন্দোলন এবং মৌলবাদীদের উত্থান প্রচেষ্টার ফলে জনজীবনে কিছুটা অশান্তি সৃষ্টি হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো যাবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে। নতুন প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ আহরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। ফলে রেমিটেন্স বৃদ্ধির সম্ভাবনাও প্রচুর। ঝড়, বন্যা জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একাধিকবার ভূমিকম্প হতে পারে। যানবাহন দুর্ঘটনা, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড এবং সন্ত্রাস সহিংসতায় প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদ নষ্ট হতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং একাধিক মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিবিধ ফোরামে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান প্রভৃতি রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুসর্ম্পক বজায় থাকবে। ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়। চীন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রাচ্য-প্রতীচ্যের উল্লেখযোগ্য দেশসমূহের সাথেও সুসর্ম্পক বজায় থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের সাথেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটতে পারে। বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সম্পর্ক কিছুটা শীতল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আঠারো দলীয় জোট ও চৌদ্দ দলীয় জোটের মধ্যে সংযোজন-বিয়োজনের সম্ভাবনা আছে।
রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ সরকারি আমলাদের দুর্নীতি ও দুষ্কর্মের চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে। এ বছর সজীব ওয়াজেদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারেক রহমান বা আরাফাত রহমান কোকোর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কোনো সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। বরং বেগম জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবায়দা রহমানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বছর ১/১১-এর পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যকার বিরাজমান মতবিরোধের ক্ষেত্রে কোনো একটি গ্রহণযোগ্য আপস ফর্মুলা উদ্ভাবিত হতে পারে। ২০১৩ সালে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
ভারত
নির্বাচনের আগে অনাস্থা প্রস্তাব বা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হবে না। প্রতিবেশীর সাথে সর্ম্পক উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের সাথে অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য আসবে বলে আশা করা যায় না। পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাবে এবং মমতা ব্যানার্জি নিজেকে বিতর্কিত করে তুলবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। ত্রিপুরার আসন্ন নির্বাচনে সিপিএম-এর জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাবে না। রাজনীতি ও শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জীবনাবসান ঘটতে পারে। আগামীতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা আছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদভানী গুরুতর অসুস্থ হতে পারেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। মাওবাদী তথা আতঙ্কবাদীদের তত্পরতা জোরদার হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রধান পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বছর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচিত ও নিন্দিত হবে। এমনকি আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও বারাক ওবামা সরকার কংগ্রেস ও সিনেটের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হবে। মধ্যপ্রাচ্যে তথাকথিত আরব বসন্ত সৃষ্টির প্রধান উস্কানিদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই উপলব্ধি করতে পারবে যে মিশর, লিবিয়া ও অন্যান্য দেশে সরকার পতনে সহযোগিতা করে ভুল করেছে এবং তারা যাদেরকে ওই দেশসমূহে ক্ষমতায় বসিয়েছে তারাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে অঞ্চল বিশেষে মাত্রাতিরিক্ত তুষারপাত, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প প্রভৃতির ফলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে। বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। রাশিয়া, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, লেবানন ও ইরাক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে। ইরান ও সিরিয়ায় ন্যাটো বা বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা এ বছর খুব একটা ভালো যাবে না। মূল্যস্ফীতি জনিত সমস্যা অব্যাহত থাকবে এবং বেকার সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর বর্ণদাঙ্গা এবং চাঞ্চল্যকর কোনো হত্যাকাণ্ডে দেশবাসী উত্কণ্ঠিত ও শোকগ্রস্ত হতে পারে।
রাশিয়া
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আন্দোলন নতুন করে দানা বেঁধে উঠতে পারে। কমিউনিস্টদের উত্থান প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। চেচনিয়ার বিদ্রোহীদের সহিংস তত্পরতা বৃদ্ধি পাবে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতুন কোনো সাফল্য আসতে পারে। চীন, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের সাথে সর্ম্পক উন্নয়ন হবে বলে আশা করা যায়। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা গত বছরের তুলনায় কিছুটা ভালো যাবে। রাশিয়ায় খাদ্য ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিবিধ দুর্ঘটনায় এ বছর জানমালের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চীন
চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। নতুন নেতৃত্ব দুর্নীতি দমনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। বিশ্ববাণিজ্যে চীন এ বছরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রপ্তানি বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চীন অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রকাশ্য ও গোপন তত্পরতা বৃদ্ধি পাবে। তবে তাতে সরকারের ক্ষতি-বৃদ্ধির তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। ভারত, রাশিয়া প্রভৃতি প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে সর্ম্পক উন্নয়নের আশঙ্কা আছে। চীনে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, ভুমিকম্প ও বন্যায় প্রচুর প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আছে। একাধিক খনি দুর্ঘটনায়ও প্রচুর প্রাণহানি ঘটতে পারে।