২০ বছরেও হত্যা মামলার কোনো সাক্ষী হাজির হননি

অজামিনযোগ্য পরোয়ানা ইস্যু করেও হাজির করা যায়নি কোনো সাক্ষীকে। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় ২০ বছরেও বিচার শেষ হয়নি হত্যা মামলার। দীর্ঘ এই সময়ে একাধিক বিচারক দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সাক্ষী হাজির করে বিচার শেষ করা সম্ভব হয়নি। কেন বিচার শেষ করা যায়নি সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা মহানগর পঞ্চম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লবকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৮ মে দুপুরে ওই মামলার নথি নিয়ে তাকে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এক আসামির জামিন শুনানিতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি নজরে আসায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

আদালত বলেন, ডেমরায় হযরত আলী ও মাসুদ হোসেন নামে দুই যুবককে কুপিয়ে শরীর থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয় সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে হযরত আলী মারা যাওয়ার ঘটনায় তার পিতা শওকত আলী ফকির ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ ডেমরা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে আদালত। কিন্তু সাক্ষী হাজির হয়নি। একের পর এক দিন ধার্য হচ্ছে কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণ করে বিচার শেষ করা যাচ্ছে না।  এই মামলার আসামি হেমায়েতের জামিন  আবেদনের শুনানিকালে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী আলহাজ এম এ রশিদ মিয়া (বাদশা)। তিনি বলেন, অভিযোগ গঠনের পর কোনো সাক্ষী হাজির হয়নি। এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, সময় বেঁধে দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশনা দিতে পারে হাইকোর্ট। শুনানি শেষে পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারককে তলব করে হাইকোর্ট।