কমলগঞ্জের চা শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবন যাপন

‘হামরা অনেক অভাবী। খুব ঠান্ডা লাগত, হামদের গরম কাপড় না হ, হামদের মজুরি কম। মজুরি বাড়ছে না, খুব কষ্টে আছি।’ কথাগুলো বলছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের অড়লবাড়ি লাইনের বৃদ্ধ মহিলা চা শ্রমিক ভগমনিয়া ও জেটনি রবিদাস। চা শ্রমিক মিঠাইলাল রবিদাস ও রামরাজ রিকিয়াশন বলেন, গত কয়েকদিন থেকে শীত বাড়ছে। আর বাতাসের সাথে তীব্র শীতে ঠান্ডা বেড়ে তাদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সর্দি, জ্বর, কাশি বাড়ছে। গরম কাপড়ের অভাবে চা বাগানের শিশু থেকে বৃদ্ধরা খুবই কষ্টের মধ্যে জীবন ধারণ করছে। বৃদ্ধ মহিলা জেটনি রিকিয়াশ বলেন, তার ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনী মিলিয়ে পরিবারের ২৯ জন সদস্যের মাঝে মাত্র ৫ জন কাজ করে দৈনিক ৪৮ টাকা মজুরি হারে ২৪০ টাকা উপার্জন করে। এতে পরিবারের খরচ যোগানোই সম্ভব হয় না। তার উপর গরম কাপড় কিনবো কিভাবে। লেবার লাইন ঘুরে দেখা যায়, লেবার লাইনে গা ঘেঁষা ঘর এবং একই ঘরের সাথে গরু বাছুর রেখে কোনরকমে অনাহারে-অর্ধাহারে চলছে তাদের জীবন। রামরাজ রিকিয়াশন বলেন, নিজের বউ-বাচ্চা মিলিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারে তার আয় দিয়েই কোনমতে সংসার চলছে। বাসগৃহের অবস্থাও ভাল নেই। ঠান্ডা মোকাবেলায় গরম কাপড়ের অভাব রয়েছে। চা বাগানের চাকরিজীবী একজন কর্মচারী বলেন, ‘হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান কারিগর চা-শিল্পের শ্রমিকরা সর্্বোচ্চ মাত্র ৪৮ টাকা মজুরি পেয়ে অপুষ্টি, ক্ষুধা আর বঞ্চনার মধ্যে বাস করে। বাগানে এসে স্বচক্ষে না দেখলে তা বোঝা যাবে না। দেওছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, ঘরের দরজা-জানালা ভাঙ্গা, ফাটা, ছিটকানি ও কড়া নেই। দেয়াল ভাঙা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়। আবার শীতের সময়ে গরম কাপড়ের অভাবে তীব্র শীত সহ্য করতে হয়।