‘যক্ষ্মা চিকিত্সায় এক বছরের
মধ্যে নতুন ওষুধ আনা সম্ভব’
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৯
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশেক হোসেন বলেছেন, বর্তমানে ৪০ বছরের পুরানো এন্টিবায়োটিক দিয়ে চলছে যক্ষ্মা রোগের চিকিত্সা। এমতাবস্থায় এক বছরের মধ্যে দেশে যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন ওষুধ আনা সম্ভব হবে। তবে যক্ষ্মা চিকিত্সায় ভ্যাকসিন পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘যক্ষ্মা সচেতনতায় সাংবাদিকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক হেলথ জার্নালিস্ট ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ব্র্যাকে’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. আশেক হোসেন। অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ। বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরামর্শক ডা. দীপক কুমার বিশ্বাস, আইসিডিডিআরবি’র গবেষক ডা. কে জামান, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. নুরুজ্জামান হক, এনআইডিসিএইচ’র সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ। অনুষ্ঠানে ডা. মজিবর রহমান, ডা. জাকিয়া সুলতানা সিদ্দিকী ও ডা. শায়লা ইসলাম পৃথক তিনটি গবেষণাপত্র প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, যক্ষ্মা বিশ্বব্যাপী একটি মারাত্মক রোগ হিসেবে পরিচিত। সারা পৃথিবীতে প্রায় ১২ মিলিয়ন লোক যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। যার প্রায় ৪০ ভাগ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বসবাস করে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ লাখের বেশি মানুষ নতুনভাবে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৬৭ হাজার লোক এই রোগের কারণে মারা যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার নতুন মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) যক্ষ্মা রোগী তৈরি হয় যার মাত্র প্রায় ২ হাজার রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হয়। জনসাধারণের সচেতনতা, কুসংস্কার, চিকিত্সায় অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং প্রান্তিক পর্যায়ে দক্ষ চিকিত্সকের অভাবই যক্ষ্মা রোগের প্রধান কারণ। গ্রামের তুলনায় শহরে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ বেশি। উন্নত চিকিত্সা সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক থাকায় গ্রামের মানুষদের তুলনায় শহরের মানুষ রোগ শনাক্ত করতে পারে দ্রুত।
গণমাধ্যমকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার উপর জোর দেন বক্তারা।