‘নেশার ঘোরে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ২২ বছর’
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪০
সময়ের প্রয়োজনে ১৯৯০ সালের ২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। দেখতে দেখতে এরপর কেটে গেলো ২২টি বছর। যে জনবল দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জন্ম, আজও তাই। প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। মহাপরিচালকের পর মহাপরিচালকের বদল হয়েছে। অনেককে চলে যেতে হয়েছে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। আবার অনেকে এসে এটিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতই চালিয়েছেন। কারো মনে জাগেনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের কথা। আর এ জন্য অধিদফতরের নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে শুনতে হয়েছে নানা কথা। আশার কথা, ২২ বছর পর হলেও পালিত হচ্ছে ২৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। যা অধিদফতরের জন্মের পর প্রথম। ‘বাইশ বছর নেশার ঘোরেই ছিল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।’ কথাটি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন সাধারণ কর্মচারীর। যিনি এখানে শুরু থেকে চাকরি করছেন।
আগামীকাল বুধবার তেজগাঁও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হবে। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-মহাপরিচালক আমীর হোসেন জানান, আশির দশকে সারাবিশ্বে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার আশংকাজনক বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। তিনি স্বীকার করেন, শুরুতে যে অর্গানোগ্রাম ছিল, আজ ২২ বছর পরও তার কোন পরিবর্তন হয়নি।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে শুরুতে মোট জনবল ছিল ১ হাজার ২৮৪ জন। বর্তমানে আছে কর্মরত ৯১৭ জন। আর এদের মধ্যে সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করেন ৫শ ৪০ জন। অথচ বেড়েছে জনসংখ্যা। বেড়েছে মাদকের ক্ষেত্র। নেই পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট। বিভিন্ন সময় অভিযানে গিয়ে মাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় অনেক সদস্য মারাত্মকভাবে আহত পর্যন্ত হয়েছেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন) মো. ওমর ফারুক বলেন, অধিদফতরে শুরুতে ১৯৯০ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৬টি। আর সেখানে বেড়ে প্রতিবছর অধিদফতরের মামলাই সাড়ে ৮ হাজার। অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, তবে সম্প্রতিক সময় সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জনবল বৃদ্ধির উদ্দ্যোগ নিয়েছে। ২০১০ সাল থেকে মাদক সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। অপারেশন গতিশীল করতে সরবরাহ করা হয়েছে ৪টি জীপ ও ৫টি ডাবল কেবিন পিক আপ ও একটি মোটর সাইকেল।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা উত্খাত করার লক্ষ্যে ৪টি অঞ্চল, ২৫টি রেঞ্জ, ১০৮টি সার্কেল ও ৪টি গোয়েন্দা অঞ্চলের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সোমবার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এখানে মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইকবালের পক্ষে কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমীর হোসেন। উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান, উপ-পরিচালক জাফরউল্লাহ কাজল, উপ-পরিচালক গোয়েন্দা মজিবর রহমান পাটোয়ারী ও সহকারী পরিচালক লুত্ফর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।