নববর্ষ উদযাপনে উখিয়ার
ইনানিতে পর্যটকের ঢল
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪০
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির অপরূপ লীলানিকেতন, সৌন্দর্যের রাণী হিসাবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নেমেছে। তাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে পাথরের লুকোচুরি খেলা পর্যটকের মন আকৃষ্ট করছে। তবে থাকা খাওয়া ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও সন্ধ্যা নামার আগেই পর্যটকরা ফিরে যায় কক্সবাজার শহরে।
গতকাল সোমবার বিকালে ইনানী সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নতুন বছরকে সামনে রেখে হাজারো পর্যটক বিভিন্ন স্পটে সপরিবারে অবস্থান নিয়ে সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বন বিভাগের রেস্ট হাউস সংলগ্ন পিকনিক স্পটে নারীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। অধিকাংশ পর্যটক সাগরের হাঁটু পানিতে খেলা করছেন। তবে লাইফ গার্ড না থাকার কারণে কর্তব্যরত ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বার বার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক দম্পত্তি মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সাবরিনা জানালেন, ইনানীর পর্যটন পরিবেশ অতুলনীয়। তবে এখানে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হাতেগোনা ২/৩ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যাপ্ত নয়। তারা জানালেন, এখানে টোকাই ও স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্তের অবাধ বিচরণ পর্যটন পরিবেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বীচ এলাকা থেকে সাগর পর্যন্ত অনতিদূরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া পানিভর্তি ছড়া পার হওয়ার জন্য একটি সাঁকো পারাপার হতে পর্যটকদের নিকট থেকে আদায় করা হচ্ছে টাকা। এ প্রতিনিধি তাদের ছবি ধারণ করতে গেলে তারা মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা চিকিত্সক রাইসুল ইসলাম জানালেন, তারা বর্ষবরণ করতে সপরিবারে ইনানীতে ছুটে এসেছেন। তিনি বলেন, ইনানী বীচ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত দু-একটি হোটেলে যে পরিমাণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে তা তাদের পক্ষে দিয়ে থাকা মোটেই সম্ভব নয়। এছাড়া ইনানী বীচের বন বিশ্রামাগার সংলগ্ন এলাকায় সারি সারি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালের গলাকাটা দাম নিয়ে পর্যটকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে একাধিক পর্যটকের অভিযোগ। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ইনানী সী বীচের বিভিন্ন স্পটে আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।