নতুন বছরে ব্যস্ত
থাকবে ইসি
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪২
চলতি বছর নানা ইস্যুতে ব্যস্ত থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু ইস্যু মোকাবিলা করতে হবে এ বছরেই। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী এই বছরেই শেষ হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ। আগামী দশম সংসদ নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে-সে বিষয়ে এখনো কোন রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। চলতি বছরেই সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ ও নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ইসিকে।
আইন অনুযায়ী আগামী মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে চার সিটি করপোরেশন এবং নভেম্বরের পর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল বর্তমান কমিশনের অধীনে এখন পর্যন্ত কোন নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে এক প্রকার ঝুঁকির মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে কমিশনকে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা চলতি বছরকে নির্বাচনী বছর আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই বছর কমিশনকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছে কমিশন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হতে যাচ্ছে ? বর্তমান সংবিধান অনুসারে সংসদের মেয়াদ পূরণের আগেই, নাকি পরে? কী ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে? এসব প্রশ্নের সদুত্তর পাচ্ছে না কমিশন।
গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্য কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধান বিরোধীদল তাদের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর গত ১৫ মার্চ শরীয়তপুর-৩, ৩০ সেপ্টেম্বর গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) ও ১৮ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) উপ-নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিএনপির কোন প্রার্থী অংশ নেয়নি। এছাড়াও গত ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপি কোন প্রার্থীকে সমর্থন করেনি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আর মাত্র সর্বোচ্চ ১০ মাস সময় থাকলেও এখনো পর্যন্ত মূলকাজ সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে নীতিমালা স্পষ্ট করেনি ইসি। ফলে আটকে রয়েছে সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজ।
সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজ চলছে। দু’আড়াই মাসের মধ্যে খসড়া প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চলতি বছরেই নির্বাচন কমিশনকে সংসদ নির্বাচনের আগেই ৪টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে হবে। ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুসারে করপোরেশন মেয়াদ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিধান রয়েছে।’ ২০০৮ সালের ৪ঠা আগস্ট রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে ২০১৩ সালের মার্চ থেকে অক্টোবরের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও আইন অনুযায়ী এ বছরই উপজেলা নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৪৮১ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।
এছাড়াও ৩১ ডিসেম্বর নতুন রাজনৈতিক নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এ বছরই নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, ২০১৩ সালকে নির্বাচনী বছর বলা যেতে পারে। কমিশনকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বর্তমান কমিশনকে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন সাবেক এই সিইসি।