প্রসঙ্গ: বিপিএলে পাকিস্তানী ক্রিকেটার
বিসিবি কর্মকর্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিস্মিত সংগঠকরা
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৮
বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর বাতিলের প্রতিক্রিয়া কী? সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই প্রতিক্রিয়াগুলো অনুমান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিপিএলে হয়তো খেলোয়াড় পাঠাবে না পাকিস্তান, হয়তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এর প্রভাব পড়বে এবং আরও অনেক কিছু হতে পারে। অবশ্য এর কোন প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত হবে বা আদৌ কিছু হবে কি না; এসব এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সভাপতি প্রকাশ্যে এসব অনুমান করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই। অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠকরা বলছেন, এভাবে প্রকাশ্যে পাকিস্তান কী কী করতে পারে এবং ‘পাকিস্তানীদের ছাড়াও বিপিএল হবে’ বলার ভেতর দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে ফেলেছে বিসিবি।
অবশ্য পিসিবির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বরং সে তুলনায় অনেক সংযত। তারা বলেছেন, বিপিএল ও বাংলাদেশের সফর ভিন্ন দুটি ইস্যু। এ দুটোকে মেলাচ্ছে না তারা। এটা নিশ্চয়ই পিসিবির অন্তরের কথা নয়। সে দেশের সংবাদ মাধ্যম পরিষ্কার অনুমান করছে যে, বিপিএলে অন্তত শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের আটকে দেবে পিসিবি। এ প্রসঙ্গে পিসিবি সভাপতি জাকা আশরাফ বলেছেন, ‘আমরা পরিস্থিতি ও খেলোয়াড়দের কমিটমেন্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এটা ঠিক যে, অবশ্যই গত মৌসুমের মতো সব খেলোয়াড় এই সময়ে ফ্রি থাকবে না। কারণ, আমরা নিজেরাই একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছি।’
তারা নিজেরা এই সময়েই টি-টোয়েন্টি কোনো টুর্নামেন্ট করতে না পারলেও জানুয়ারিতেই পাকিস্তানে প্রথম শ্রেণীর টুর্নামেন্ট কায়েদ-ই আজম ট্রফি শুরু হচ্ছে। ফলে এই টুর্নামেন্টের কারণে আটকে যেতে পারেন পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা। সে ক্ষেত্রে কী হবে?
বিপিএল কর্তৃপক্ষ এই ‘সে ক্ষেত্রে’ নিয়ে এখনও কিছু বলেনি। তবে ভেতরের একটি সূত্র বলছে, চলতি সপ্তাহেই পরিস্থিতি দেখে একটি ‘ক্লোজ ডোর’ নিলাম হতে পারে। তারা এখন আসলে পাকিস্তান কী করে; সেটা দেখতে চাচ্ছেন। তারপর দল মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে চান যে যদি খেলোয়াড় ঘাটতি হয়, সেটা পূরণে কী করা হবে। তবে বিপিএলের সূত্রটি আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আসবেন।
পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের আসা, না আসা নিয়ে স্বভাবতই চিন্তিত দল মালিকরাও। বিশেষ করে পাকিস্তানীরা না এলে জৌলুস এবং স্পন্সর হারানোর ভয়ে শংকিত তারা। এমনকি খেলোয়াড়রা না এলেও ‘নেতিবাচক প্রচারণা’র কারণে ইতিমধ্যে তারা একটা ধাক্কা খেয়েছেন বলে দাবি করছেন দুরন্ত রাজশাহী দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন, ‘আমরা বিশ্বাস করি পাকিস্তান সফরের ব্যাপার বিপিএলে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু যেভাবে লেখা হচ্ছে যে, তারা আসবে না, তাতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পত্রিকায় এসব খবর দেখে সম্ভাব্য স্পন্সররা উত্সাহ হারাচ্ছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কিছু বলার আগেই তারা আসবে না এটা ধরে নেয়াটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে।’
মোহনের এই কথাটা আরও বিস্তারিত করে বললেন একজন ক্রিকেট সংগঠক। দেশের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেট সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন, ‘পাকিস্তান সফরে না যাওয়া একটা ব্যাপার, বিপিএল আরেকটা ব্যাপার। হ্যাঁ, ভেতরে তো একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সেটা অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে বললে, কাউন্টারপার্টকে উস্কে দেয়া হয়। ফলে পাকিস্তান কী করবে, সেটা এভাবে অনুমান করাটা ঠিক হয়নি বলেই মনে হয়। আর পাকিস্তানীরা না এলেও বিপিএল হবে, এটা বলার ভেতর দিয়ে আমরা একরকম যুদ্ধ ঘোষণা করে দিলাম না? সেটার কি দরকার ছিল? পাকিস্তানের হাতেই ব্যাপারটা ছেড়ে দিলে হত।’
তবে সবকিছুর পরও সংগঠকরা মনে করছেন, বিসিবির এখনই পিসিবির সঙ্গে আলাপ করা উচিত। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারলে সেটা সবদিক থেকেই উপকার হবে বলে মনে করছেন এই সংগঠক।