পাকিস্তান সফর কাণ্ড

২৩ নভেম্বর, ২০১১ আইসিসি সহ-সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী আ হ ম মোস্তফা কামালকে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর চেয়ে প্রস্তাব দেয় পিসিবি। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১ পিসিবি সভাপতির ঢাকা সফরে দীর্ঘ বৈঠকের পর যৌথ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয় মোস্তফা কামালকে সমর্থন দেবে পিসিবি। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখার জন্য একটি দল পাঠানোর ঘোষণা দেয়া হয়। ৪ মার্চ, ২০১২ দেশের নানা জায়গায় পাকিস্তান সফরের বিরোধিতা করে মিছিল, মানববন্ধন চলছিল। সেই সময়ে মোস্তফা কামালের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কমিটি দেশে ফিরে জানায়, পরিস্থিতি সন্তোষজনক। ৭ মার্চ, ২০১২ আইসিসি বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরকে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বলে বিবেচনায় নিয়ে আইনে ‘বিশেষ ছাড়’ দেয়ার ঘোষণা দেয়। যে ছাড়ের ফলে আইসিসি তার ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের পাকিস্তানে নিরাপত্তার কারণে না পাঠালেও এই আন্তর্জাতিক সিরিজ হতে বাধা থাকল না। ১২ মার্চ, ২০১২ আভ্যন্তরীণ চাপের মুখে মোস্তফা কামাল ঘোষণা দেন আইসিসি অফিশিয়াল না পাঠানো পর্যন্ত পাকিস্তানে যাবে না বাংলাদেশ। সঙ্গে সঙ্গে জাকা আশরাফ দু’ দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। ১৫ এপ্রিল, ২০১২ এপ্রিলের শেষে বাংলাদেশ পাকিস্তান সফর করছে বলে মোস্তফা কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন। দুবাই থেকে তার এই ঘোষণায় বিস্মিত বিসিবি পরিচালকরা। তারা বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ করা হয়নি। ১৯ এপ্রিল, ২০১২ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য উচ্চ আদালত চার সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। পাকিস্তান বোর্ড সতর্কতার সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। ১ নভেম্বর, ২০১২ বিসিবির নতুন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলে, পিসিবির কাছে বিসিবির পক্ষ থেকে সফর নিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে মোস্তফা কামাল ছাড়া বোর্ডের কেউ কিছু জানতেন না। ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২ পাপন নিশ্চিত করেন, পাকিস্তান সফর নিয়ে তারা আলোচনা করছেন এবং জানুয়ারিতেই দল সফরে যাবে। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের ওপর সফরের ব্যাপারে চাপ না দেয়ার কথা জানান। ২২ ডিসেম্বর, ২০১২ লন্ডন থেকে পাপন বলেন, আইসিসি থেকে বিসিবি নিরাপত্তা-নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে; যদিও আইসিসি অনেক আগেই এটাকে ‘বিশেষ সফর’ বলে জানিয়ে দিয়েছে। ওই দিনই আগের দিকে পিসিবি সভাপতি বলেন, সফর নিশ্চিত। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২ বিসিবি প্রেসিডেন্ট সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন, আপাতত পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। পিসিবি সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে বলেছে, বিপিএলে কোনো খেলোয়াড়কে এনওসি দেবে না তারা। বিসিবি সভাপতি এই ঝুঁকি মেনে নিয়েই ঘোষণা দেন।