লোকসানের বোঝা নিয়েই বোরো আবাদে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক

আমন ধানের লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদ শুরু করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকরা । কৃষকরা ইতোমধ্যে বোরো বীজতলা তৈরি করেছেন। শীতের মধ্যেও ভালো চারা করার জন্য কৃষকরা নিয়মিত বীজতলা পরিচর্যা করছেন। আর কয়েকদিনের মধ্যে বীজতলা থেকে চারা তুলে ধান লাগানো শুরু করবেন। গত দুই বছর ধরে কৃষকরা ধান আবাদ করে মোটা অংকের লোকসান গুণছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার ৮০২ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬৭ হাজার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে। আর আবাদ হয়েছিল ৭০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। জেলার কৃষকরা বোরো আবাদের জন্য সাড়ে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজতলায় চারাও ভালো হয়েছে। তবে শৈত্য প্রবাহের জন্য অনেক বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। আর কয়েকদিন পরে কৃষকরা পুরোদমে বোরো আবাদে নেমে পড়বেন। বর্তমানে সার, ডিজেল, বিদ্যুত্ ও শ্রমিকের দাম বহুগুণে বেড়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ করতে হিমশিম খেতে হবে চাষিদের। রহিমানপুর গ্রামের চাষি রবিউল আলম মন্টু জানান, ধান আবাদ করে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এবছর তিনি অল্প জমিতে আবাদ করবেন। কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক জানান, কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে চারা যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারপরও অনেক বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। উত্পাদন খরচ সাশ্রয় করতে কৃষকদেরকে গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।