যমুনার ভাঙ্গনে জামালপুরের
কৃষকদের দুর্দিন
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
জামালপুরের যমুনা পাড়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চলছে এখন দুর্দিন। যমুনার চরে বাড়ির আঙ্গিনায় বসে পৌষের কনকনে শীতে থরথর করে কাঁপতে থাকা সন্দেশ আলী বলেন, এ বছর বন্যায় আমাদের পাটের ফসল বানে খাইছে। পর পর দুই দফা রোপা আমন ধানও বানে খাইছে। তাই আমরা পাট, ধান কিছুই ঘরে উঠাতে পারি নাই। ঘরে খাবার নাই।
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বিধৌত জামালপুরের ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩২টি ইউনিয়নের চাষীদের রোপা আমন ফসল বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমপ্রতি ওসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রোপা আমন চাষীদের ঘরে ঘরে চলছে খাদ্য সংকট। অপরদিকে জেলার ৩৬টি ইউনিয়নে এবছরও রোপা-আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও উত্পাদন খরচের তুলনায় ধানের মূল্য কম। তাই ধান উত্পাদনকারী এলাকার কৃষকদের ঘরেও নেই কোন নবান্নের উত্সব। চলছে ধান চাষে লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, যমুনা ও ব্র?হ্মপুত্র বিধৌত জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন বিগত বন্যা মৌসুমে পরপর তিন দফা বন্যা কবলিত হয়ে চাষীদের রোপা আমন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওসব রোপা আমন চাষীদের ঘরে এবছর হেমন্তে উঠেনি কোন নতুন ধান। তাই ওইসব এলাকায় এখন চলছে খাদ্য সংকট নেই কোন নবান্নের উত্সব। অর্থের অভাব শীতবস্ত্র কিনতে না পারায় প্রচণ্ড শীতে বৃদ্ধ ও শিশুরা শীতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুও হয়েছে বলে বিভিন্ন ইউপির চেয়ারম্যানগণ জানিয়েছেন।