স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো

অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন জীবনে চলার পথে যেমন অনেক বন্ধু জোটে তেমনি অনেক শত্রুও সৃষ্টি হয়। তবে বন্ধুর ভূমিকা যেমন সর্বক্ষেত্রে মানুষের চলার পথে সহায়ক হয় না তেমনি কোন কোন ক্ষেত্রে শত্রুর সমালোচক ভূমিকা থেকেও মানুষ আশাতীত উপকৃত হয়ে থাকে। দৈনন্দিন বাস্তব জীবনে মানুষের বন্ধু সংসর্গের প্রয়োজন হয়। সুখ-দুঃখের সহমর্মিতা প্রকাশ, বিপদে সহায়তা, দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় সুপরামর্শদান ভুল পদক্ষেপ নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে বন্ধু মানুষের জীবনে পরম সুহূদের ভূমিকা রাখে। কিন্তু অনেক সময় বন্ধুত্বের কারণে অনেকে লোকের ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্দেশ করে না। ফলে মানুষ নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ পায় না। অনেক সময় বন্ধুত্ব নষ্ট হবার আশঙ্কায় বন্ধু-বন্ধুর প্রয়োজনের মুহূর্তে স্পষ্ট সত্য উচ্চারণ করার ভয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনের মুহূর্তে বন্ধু যদি নির্বাক ভূমিকা পালন করে,উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবার পরামর্শ না দেয় তবে বন্ধুর ভূমিকা বন্ধুসুলভ না হয়ে বরং বিপরীত হয়। পক্ষান্তরে পরম শত্রুও যদি সুস্পষ্ট ভাষায় কারো ভুল ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে তবে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে সে ভুল ত্রুটি শুধরে নেওয়া সহজেই সম্ভব হয়। এ ধরনের শত্রু মানুষের জীবনে নির্বাক মিত্রের চেয়ে বরং উপকারী সুহূদের ভূমিকা রাখে। এ জন্যে প্রজ্ঞাবান লোকেরা নির্বাক মিত্রের চেয়ে স্পষ্টভাষী শত্রুর ভূমিকা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাঁদের ধারণা,স্পষ্টভাষী শত্রু যেভাবে মানুষের দোষ-ত্রুটির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাতে মানুষ সচেতন ও সতর্ক হবার সুযোগ পায়, নিজেদের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য সচেষ্ট হতে পারে। পরিণামে মানুষ সঠিক পন্থা ও পদক্ষেপ নিতে পারে, চারিত্রিক ত্রুটি সংশোধন করতে সক্ষম হয়। প্রকৃত মিত্র যিনি তার ভূমিকা নির্বাক মিত্রের অনুরূপ হওয়া উচিত নয়। স্পষ্ট ভাষায় বন্ধুর ভুল-ত্রুটি দেখিয়ে দিয়ে তা সংশোধনের পরামর্শ দেয়া প্রকৃত বন্ধুর কাজ আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধুর সার্থকতা।