ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে সরকার
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। যে কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, দেশে সুশাসন নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চার বছরে রপ্তানি আয় ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে বলেই বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশ আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ক্ষমতায়ন, কালচার অব পিস ও অটিজম বিষয়ক তিনটি প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চার বছরে বিনিয়োগ এসেছে ৩৮২ কোটি মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয় ৬৩০ ডলার থেকে ৮৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে। সরকারের সৃষ্ট সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে উত্পাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আরো বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিগত বিএনপি সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আদমজী পাটকল বন্ধ করে দেয়ার চুক্তি করায় বাংলাদেশ পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাজার হারিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের সময়ে বন্ধ পাটকলগুলো আবার চালু করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পাটের জন্ম-রহস্য উন্মোচন করেছি।
দেশের সাতটি বিভাগে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশি-বিদেশি সব ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উত্সাহিত করছি। মন্দা মোকাবেলায় দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছি। একটি যুগোপযোগী ও উদ্যোক্তা-বান্ধব শিল্পনীতি করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপের মাধ্যমেও অবকাঠামো গড়ে উঠছে। পণ্যের বহুমুখীকরণে ব্যবসায়ীদের যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুত্ উত্পাদনে তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বিদ্যুত্ উত্পাদন তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি।’ তিনি বলেন, গ্যাসের উত্পাদন দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে। এ জন্য আরো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও নতুন উত্তোলন কূপ খনন করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ব্লক টেন্ডার দেয়ার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হার শীর্ষ দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা থ্রিজি ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করেছি। এরপর ফোর-জি চালু করবো।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি সেখানকার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
গতকাল সকাল থেকে দেশি-বিদেশি প্যাভেলিয়ন-স্টলের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও এতে ১২টি দেশের ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের মেলায় কিছু পরিবর্তন রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণকে ধূমপানমুক্ত রাখার জন্য আলাদা চারটি ধূমপান জোন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা জোন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মেলার অভ্যন্তরীণ অবস্থা এবং স্টলগুলোর সঠিক তত্ত্বাবধানের জন্য মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বুথ রয়েছে।
এবার মেলায় রয়েছে ৯৩টি প্যাভেলিয়ন, ৪৮টি মিনি প্যাভেলিয়ন ও ৩৬০টি স্টল। মেলায় অংশ নেয়া দেশগুলো হলো-দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তান, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, জাপান ও থাইল্যান্ড। মেলায় আসা ক্রেতাদের জন্য এবার ভেতরে থাকছে ৬টি রেস্তোরাঁ। মেলায় প্রবেশ টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের টিকেটের মূল্য ১০ টাকা। এবার ডিআইটিএফ ই-শপের (www.ditfeshop.com) মাধ্যমে ক্রেতারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে মেলার পণ্য কিনতে পারবেন। মেলায় জরুরি চিকিত্সা দেয়ার জন্য ছোট আকারে মেডিক্যাল সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান সুভাশীষ বোস।