কমলগঞ্জের হাওরে রাস্তা ক্ষতিকর!

উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা-হালাবাদি গ্রাম থেকে কেওলার হাওরের মধ্যবর্তী লাঘাটা নদী পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। সম্প্রতি কাবিখা প্রকল্পের ৮ টন গম বরাদ্দ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল করিম শ্রমিক লাগিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ফুট উচ্চতা এবং ১২ ফুট প্রস্থ রাস্তা নির্মাণে মাটি ভরাটের কাজ তদারক করছেন। প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, হাওরে চাষাবাদ ও যাতায়াতের জন্য কৃষকদের সুবিধার্থে এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই বছর আগে লাঘাটা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য তিনি নিজের অর্থায়নে রাস্তায় মাটি ভরাটের কিছু কাজ করেছেন। এখন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাবিখা প্রকল্পের অর্থায়নে মাটি ভরাটের কাজ করছেন। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী রূপষপুরসহ অন্যান্য গ্রামে যাতায়াতের সুবিধার্থে পরে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের মাধ্যমে হাওরের অবশিষ্ট স্থানে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই রাস্তা নির্মাণে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি শহীদ, পতনউষারের সমাজসেবক আব্দুল হান্নান চিনু, তোয়াবুর রহমান তবারক, সাবেক ইউপি সদস্য আশিক মিয়া এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের দুইজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ পরিবেশের ক্ষতি করবে। তাছাড়া কেওলার হাওর এতদঞ্চলের পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্ক হিসাবে পরিচিত। অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমা হতো। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বন্যার পলি-বালি জমে এমনিতেই কেওলার হাওর ভরাট হয়ে গেছে। তার উপর অবৈজ্ঞানিকভাবে রাস্তা নির্মাণের ফলে কেওলার হাওর সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে ভবিস্যতে পরিবেশের ক্ষতির কারণ হবে। হাওরে রাস্তা নির্মাণের ফলে মাছের অবাধ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হবে, মাছের উত্পাদন হ্রাস পাবে। হাওরের মাঝে রাস্তা নির্মাণ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলের কৃষি গবেষক শাহ আবদুল আজিজ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এটা অবশ্যই পরিবেশের জন্য ক্ষতি হবে। পলি-বালি জমে হাওর ভরাট হয়ে যাবে। মাছের আবাসস্থলে আর মাছ হবে না।