ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হচ্ছে আজ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার রাজধানী ঢাকার ৯২টি ওয়ার্ড কার্যালয়সহ দেশের সকল থানা, জেলা ও বিভাগীয় অফিসে এই খসড়া তালিকা পাওয়া যাবে। খসড়া তালিকায় আপত্তি জানাতে আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোটার তালিকা হালনাগাদে গঠিত বিশেষ মনিটরিং সেলের প্রধান ও ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো ঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের সর্বত্রই হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ করে এই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। দাবি-আপত্তি গ্রহণের জন্য ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি এ তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি বড় কাজ ভোটার তালিকা হালনাগাদ। এর মাধ্যমে ইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে যাচ্ছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, ভোটার তালিকার হালনাগাদ সংক্রান্ত সকল দাবি, আপত্তি ও সংশোধনী দাখিল করতে হবে ১৭ জানুয়ারির মধ্যে। ভোটারদের ঠিকানা ও নাম পরিবর্তন, জাতীয় পরিচয়পত্রের যে কোন ধরনের সংশোধনী এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারযোগ্য যে কোন নাগরিক এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দাখিলকৃত দরখাস্ত সমূহের নিষ্পত্তি করা হবে ২২ জানুয়ারি। আর দরখাস্তের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ২৬ জানুয়ারি। নোটিসে জানানো পাশাপাশি বই আকারে ভোটারের খসড়া প্রকাশ করা হচ্ছে। গত বছরের ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হয় গত ১৫ ডিসেম্বর। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বমোট ৯ কোটি ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ২২৫ জন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভোটার হওয়ার যোগ্য বাদ পড়া ব্যক্তিরা এখন থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ বছর হালনাগাদে ৮ দশমিক ১ ভাগ হারে সারাদেশে ভোটার বেড়েছে মোট ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩ জন। গত ১০ মার্চ হালনাগাদ কাজ আরম্ভ হওয়ার আগ পর্যন্ত সারাদেশের মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৫ জন। এ সময় বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে মৃতভোটার বাদ দেয়া হয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৩ জন। অবিতরণকৃত পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৮৯২টি। সর্বমোট ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭০৪ জন। এএফআইএস (অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ম্যাচিং পদ্ধতিতে ভোটার পুনঃনিবন্ধন করা হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৯৩ জন। এবারে ভোটার তালিকা হালনাগাদে এর বিপরীত তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা মহানগরীতে। ৩ বছর আগের বিদ্যমান তালিকার ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩ জন ভোটারের মধ্যে এবার স্থানান্তর হয়েছেন মাত্র ৯ হাজার ৫৩৬ জন। অন্যদিকে সারাদেশের বিদ্যমান ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৩ জন ভোটারের মধ্যে স্থানান্তর হয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭০৪ জন। অর্থাত্ সারাদেশে গড়ে যেখানে দশমিক ৫১ শতাংশ ভোটারের ঠিকানা বদল হয়েছে সেখানে রাজধানী ঢাকায় হয়েছে মাত্র দশমিক ১৯ শতাংশ ভোটারের। নির্বাচন কমিশন ঢাকা মহানগরীর ভোটার স্থানান্তরের এই অবস্থার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে ঢাকা মহানগরীতে মৃত ভোটারের নাম কর্তন হয়েছে মাত্র মোট ২ হাজার ৪৫০টি। সারাদেশে বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে যেখানে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৬ জন বা দশমিক ৭৮ শতাংশ মৃত ভোটারের নাম কর্তন করা হয়েছে, সেখানে ঢাকা মহানগরীতে হয়েছে দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ঢাকা মহানগরীতে বিদ্যমান তালিকার তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৬ জন নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোটার বেড়েছে উত্তরা থানা নির্বাচন অফিস এলাকায়। এছাড়া রমনা থানা নির্বাচন অফিস এলাকায় ৮ দশমিক ৪০ ও মোহাম্মদপুর থানা নির্বাচন অফিস এলাকায় ৮ দশমিক ৩৩ ভাগ ভোটার বেড়েছে। আর সবচেয়ে কম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটার বেড়েছে তেজগাঁও থানা নির্বাচন অফিস এলাকায়। কম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রমনার পরেই রয়েছে ধানমন্ডি থানা নির্বাচন অফিস এলাকা। এ এলাকায় ভোটার বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। খালেদা জিয়া এখনো মইনুল রোডে! ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বরে সেনাকর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির কোন অস্তিত্বই নেই। তারপরও তিনি এখনও ওই ঠিকানায় ভোটার। সদ্যসম্পন্ন হালনাগাদ তালিকাতেও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ওই ঠিকানাতে ভোটার রয়েছেন বলে ঢাকার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদেরকে এবারের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চারটি ধাপে গত ১০ মার্চ থেকে শুরু করে মোট ১৫৩টি টিম এ কাজ সম্পন্ন করে। প্রতিটি টিমে ৯টি করে মোট ১ হাজার ৩৭৭টি ল্যাপটপে এ কার্যক্রম চলে।