রাজশাহী মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
রাজশাহী মহানগরীর জনসংখ্যা কয়েকগুণ বাড়লেও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এ সুযোগে মহানগরীর বিভিন্ন অলিগলির ভাড়া বাড়িতে ব্যাঙের ছাতার মত বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেন ও স্কুল গড়ে উঠেছে। এসব স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে অভিভাবকদের আকৃষ্ট ও বিভিন্ন ফি’র নামে গলাকাটা অর্থ আদায় করছে। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত নয়, এমন কিন্ডারগার্ডেন ও স্কুল কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা দেখার কেউ নেই। তবে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলে ভর্তির রশিদেও নানারকম ফি’র উল্লেখ রয়েছে। অথচ ঐসব ফি’র বিপরীতে সেবা স্কুলগুলো থেকে পাওয়া যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছরে নগরীতে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেন ও স্কুল গড়ে উঠেছে। জমি, অবকাঠামো ও আসবাবপত্র না থাকলেও যত্রতত্র বাড়ি ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সংশ্লিষ্টরা ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করছে। এ মহানগরীতে বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেন ও স্কুলের প্রকৃত সংখ্যা প্রশাসনের কাছে নেই। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা শিক্ষা অফিস এমনকি জেলা প্রশাসকের শিক্ষা ও উন্নয়ন শাখায় বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেন ও স্কুলের পরিসংখ্যান নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট স্কুল প্রধানরা যেখানে যেভাবে পারছেন ইচ্ছেমত বিভিন্ন ফি’র নামে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। অথচ অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ এমনকি প্রয়োজনীয় শিক্ষক পর্যন্ত নেই।
অন্যদিকে নগরীর সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুলেও বিভিন্ন নামে সরকারি স্কুলের চারগুণ অর্থ আদায়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিযোগ রয়েছে, সকল স্কুলেই বছরে একবার সংক্ষিপ্ত খেলাধুলার আয়োজন হয়। অথচ স্কুলে খেলাধুলার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। একই ব্যাজ ও নির্দেশিকা প্রতি বছর ব্যবহূত হয়। প্রাথমিক চিকিত্সা মাঝে মধ্যে দেয়া হয়। শরীর চর্চ্চার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয় না। শুধু জাতীয় দিবসে নামমাত্র আয়োজন থাকে। বিতর্ক ও অন্যান্য শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার বালাই নেই। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিস এবং জেলা প্রশাসকের দপ্তরে কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।