তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করুন
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪২
আ গামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের কোন আলোচনা চলছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, তলে তলে আলোচনা নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করে রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আর নিরপেক্ষ একজন ব্যক্তিকে প্রধান করে ১০জন নিরপেক্ষ সদস্যের বিধান রেখে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনলেই কেবল সরকারের সাথে আলোচনা হতে পারে। সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন,‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা অব্যাহত আছে।’ এর জবাবে খালেদা জিয়া রাজধানীতে এক ছাত্রসমাবেশে বলেছেন, ‘তলে তলে কোন আলোচনা হয় না। এই তলে তলে আলোচনার নামে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে। অতীতেও তারা এসব করেছে। এবার এসব ফর্মুলায় কাজ হবে না। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাবার জন্য ‘শর্টকাট’ কোন পথ নেই। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা ঐক্যমতে পৌঁছতে পারি। নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করতে পারি। খালেদা জিয়া সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনার জন্য সরকারের প্রতি আবারো দাবি জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে এর বিকল্প নেই। এছাড়া তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করার জন্যও সরকারের প্রতি আহবান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অতীতে কোনদিন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। এজন্য আগামীতেও তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় আছে। এজন্য তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান ভয় পায়। গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এখন তলে তলে আলোচনা করতে চাচ্ছে। খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের অধীনে নয়। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। এ সরকারের উপদেষ্টারা নিরপেক্ষ হবেন। তাদেরকে বেশি সময় দেয়া যাবে না। তারা শুধু দৈনন্দিন কাজ করবেন আর যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন। বিগত ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, তাদের আমলকে কোনভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলা যাবে না। তারা তত্ত্বাবধায়কের নাম করে অনেকদিন ক্ষমতায় ছিলেন। আওয়ামী লীগ সে সময়ে এ অবৈধ সরকারকে সমর্থন করেছিলো। কারণ তারা সব সময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। স্বৈরাচার এরশাদকেও আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছিলো বলে খালেদা জিয়া উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব সময় বাঁকাপথে ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা গণতন্ত্রে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা সবকিছু ভুলে গেছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী লীগ দেশকে তাঁবেদারি রাষ্ট্র বানাতে চায়। বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তকে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সর্বনাশ করেছে। তারাই বিদেশি শক্তির তাঁবেদার। এজন্য তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী শক্তির দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে গণতন্ত্র রক্ষা হবে। যারা দেশের ভালো চায় তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা দেশকে রক্ষা করবো। কাউকে বাদ দেবো না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয় হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেফতার করা দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করে খালোদ জিয়া বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে ছাড়া পাচ্ছে। ফাঁসির আসামিকে মাফ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে তাদের মুক্তি দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান। তিনি অবিলম্বে গুম হওয়া দলের নেতা ইলিয়াস আলীকে মুক্তি দেয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহবান জানান।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শুরুতে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সুশৃংখল ছাত্রসংগঠন হলেও তাদেরকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে বই নেই। তাদের হাতে বন্দুক, ছুরি আর বল্লম রয়েছে। তাদের কারণে নিরীহ বিশ্বজিত মরেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল করে দিয়েছে তারা। শতবর্ষের পুরানো ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্ত্রাগার হোক তা আমরা চাই না। তিনি প্রকৃত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলকে গড়ে তোলার আহবান জানান।
ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ছাত্রসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম, ডক্টর খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ সরকার উপস্থিত ছিলেন।