স্বপ্নের হাতিরঝিল উন্মুক্ত হচ্ছে আজ
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৩
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বহুল আলোচিত স্বপ্নের হাতিরঝিল প্রকল্প উন্মুক্ত হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে নান্দনিক এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন। এর পরই হাতিরঝিল এলাকা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে। এতে করে রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজারের অসহনীয় যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে উদ্বোধন উপলক্ষে হাতিরঝিলকে বাহারি রংয়ের ফুলে সাজানো হয়েছে। পথে পথে রং-বেরংয়ের পতাকা শোভা পাচ্ছে। রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা শহর নতুন চেহারা পাবে। সবুজের সমারোহ ও পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকবে এই এলাকা। ব্যস্ত রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে একাকি কিংবা পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় জায়গা হবে এটি।
হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘স্পেশাল ওয়ার্কস অরগানাইজেশন’ (এসডব্লিউও)-এর পশ্চিম বিভাগের কর্মকর্তা ও সৈনিকরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রকল্পের শতকরা ৯৫ ভাগ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং শ্রীবৃদ্ধি করা। মাত্র কয়েক মিনিটেই ঝিলের গা ঘেঁষে তৈরি রাস্তা দিয়ে রামপুরা থেকে কারওয়ান বাজার বা কারওয়ান বাজার থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে গুলশান হয়ে বাড্ডা।
জানা গেছে, হাতিরঝিলের সাথে গুলশান ও বনানী লেকের সংযোগ দেয়া হবে। সারা বছর ঝিলের পানি স্বচ্ছ রাখার ব্যবস্থা থাকবে। ঝিলের চারদিকে ওয়াকওয়ে, ওভারপাসসহ চারদিকে পূর্ব-পশ্চিম সড়ক, লেকের এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য দৃষ্টিনন্দন সেতু, নজরকাড়া বাহারি জলফোয়ারা, চমত্কার সিঁড়ি ছাড়াও বিনোদনের জন্য থাকছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও শিশুপার্ক। বিশ্বমানের থিয়েটার, শরীরচর্চা কেন্দ্র ও পর্যটকদের নামাজ আদায়ের জন্য থাকবে মসজিদ। পালতোলা নৌকায় নৌবিহার করার ব্যবস্থাও থাকবে এখানে।
প্রসঙ্গত বছর কয়েক আগেও হাতিরঝিল ছিল রীতিমতো নর্দমা; পচা পানির আধার। বর্তমানে এর বুকে বইছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। ঝিলের পানি সারা বছর স্বচ্ছ রাখতে পাম্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে এখানে। ময়লা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকবে।
রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) প্রকৌশলী এম মাহবুব-উল-আলম প্রকল্প সম্পর্কে ইত্তেফাককে বলেন, ১৯৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৩০২ একর জমির ওপর প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ১০৪৮ কোটি টাকা। অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে রয়েছে রাজউকের ৪৬ শতাংশ, ‘কোর্ট অব ওয়াক্স’-এর ৮১ একর, পাবলিক ল্যান্ড ১৪১ একর ও বিটিভির ১ একর।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, হাতিরঝিল প্রকল্পটি ২০০৭ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। ৩ বছর মেয়াদের এ প্রকল্পটি প্রথমে ২০১০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর কাজই শুরু হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। পরবর্তীতে প্রকল্পটি সংশোধন করে আরো দেড় বছর সময় ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়। প্রকল্প ব্যয় ১ হাজার ৯ শত ৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকার মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজউকের ১ হাজার ১১৩ কোটি ৭ লাখ, এলজিইডির ২৭৬ কোটি এবং ঢাকা ওয়াসার ৮৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে।