শেষ হলো ১২ দিনব্যাপী বিজয় মেলা
মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৯
বিজয় দিবস উপলক্ষে ১২ দিনব্যাপী বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমে ১২ দিনব্যাপী এই বিজয় মেলা বেশ জমে উঠেছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে এই বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়েছে। আর সমাপনী দিনে পুরো অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় এবং মাতিয়ে গেলেন ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে লাখো দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই অনুষ্ঠান।
১২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিল মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসন। ১২ দিনব্যাপী বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু জানিয়েছেন, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে মির্জাপুর স্টেডিয়ামে মাঠে বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। মেলায় প্রতিদিন পুতুল নাচ, চরক ঘোরানো, হাতির নাচ, সার্কাস খেলার আয়োজন ছিল। সার্কাসে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলা উপভোগ করতে প্রতিদিন মেলায় হাজার হাজার নারী-পুরুষ ছাড়াও শিশু ও নানা পেশার মানুষ ভিড় জমিয়ে ছিল। মেলাকে আকর্ষণীয় করতে প্রতিদিন আলোচনা সভায় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান মিয়া, জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান ফারুক, পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চৌধুরী, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যরাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদিন বিকেল থেকে চলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মির্জাপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের উপর আলোচনা সভা আর রাতে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া মির্জাপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানগণ ১২ দিনের মেলায় আলোচনা সভায় কেউ প্রধান অতিথি আবার কেউ বিশেষ অতিথি থেকে অনুষ্ঠানের আরও শোভা বর্ধন করেছেন। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মীর শরিফ মাহমুদ, মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংঠনিক সম্পাদক সাহাদত হোসেন সুমন, মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন প্রমুখ। আলোচনা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু আওয়ামী লীগ সরকারের গত চার বছরের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পর পরই শুরু হয় মমতাজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী দিনে মমতাজের ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’, ‘খাইরুন লো তোর লম্বা লম্বা চুল’, ‘জনম দরদী আমার মা’, ‘লাখ টাকার পুলা’, ‘নিথুয়া পাথারে’ ইত্যাদি গানে লাখো দর্শক ও শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়। এর আগের ১১ দিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্লোজ আপ ওয়ান ও সুর দরিয়ার কণ্ঠশিল্পীসহ যারা এসেছিলেন ১৬ ডিসেম্বর মহসীন খান, আতিক, ছুইটি, ১৭ ডিসেম্বর সাব্বির, সোনিয়া, নিশিথা বড়ুয়া, ১৮ ডিসেম্বর পিংকি, ইমরান, বিউটি, ফকির সাহাবুদ্দিন, ১৯ ডিসেম্বর শশী, পথিক হাসান, কিশোর, ২০ ডিসেম্বর আশা, নকুল বিশ্বাস, ২১ ডিসেম্বর নির্বাচিতা, বৃষ্টি, নয়নমনি, নুলক বাবু, ২২ ডিসেম্বর শতদল শিল্পীগোষ্ঠী টাঙ্গাইলের লাউলি, অনন্যা, সেতু, ২৩ ডিসেম্বর হেমা, শাহনাজ বাবু, স্মরণ, মনির, ২৪ ডিসেম্বর পথিক নবী, হেমা, আলমগীর, ২৫ ডিসেম্বর আশিক, লুইপা, চুমকি, ২৬ ডিসেম্বর মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন বাউল শিল্পী দল।