গানের দুরন্ত মেয়ে

শুদ্ধ গানের শিল্পী হওয়ার বাসনা নিয়ে ছোটবেলায় তিনি যে পথচলা শুরু করেছিলেন বর্তমানে তা আরও গতিময় হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই গান শিখতেন বাসায় ওস্তাদ রেখে। নিজে একা একা যখন থাকতেন, গান গাইতেন আপন মনে। সেই বয়সেই হারমোনিয়াম আর তবলার যে ভুবনে এই মিষ্টি মেয়েটির যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটা এখন চলছে দারুণ গতিতে। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গানে করতেন। স্কুল পর্যায়ে দু’বার গানের প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। এগুলো হলো—১৯৯৮ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ শিশু মৌসুমী প্রতিযোগিতা। আজকের মিমি সেদিন ভাবতেও পারেননি একদিন তার গান সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ভালোবেসে গ্রহণ করবে। মিমির মোট তিনটি সলো অ্যালবাম বাজারে এসেছে। এরমধ্যে ২০০৬ সালে গানচিলের ব্যানারে বাজারে আসে প্রথম অ্যালবাম ‘খেয়ালি মন’। ওই অ্যালবামটি বেশ সাড়া ফেলে তরুণশ্রোতাদের মাঝে। দ্বিতীয় সলো অ্যালবাম বাজারে আসে ২০০৯ সালে। ‘দিওয়ানা’ নামের এই অ্যালবামের সুর সংগীত পরিচালনা করেন মানাম মোহম্মদ ও পঙ্কজ। গানগুলো হলো—‘এক দিওয়ানা’, ‘বৈশাখী মেলায়’, ‘হূদয় তুমি’, ‘জাদু’, ‘কলঙ্কিনী’, ‘চোখ দিয়ে’, ‘আউলা প্রেমের’, ‘মেঘ ভেঙে চাঁদ’ এবং ‘ভোরের শিশির’। গানের কথা লিখেছেন শেখ রেজা শানু, মাসুদ হাসান এবং লিটন। লেজার ভিশনের ব্যানারে প্রকাশিত ফোক, ফিউশন এবং মেলোডি নির্ভর গান দিয়ে সাজানো ওই অ্যালবামের বেশ কয়েকটি গান জনপ্রিয় হয়। গত বছর অগ্নিবীণার ব্যানারে প্রকাশ হয় ‘আড়াল’। ‘এক দিওয়ানা’ খ্যাত এই কণ্ঠশিল্পীর এই অ্যালবামটির সব ক’টি গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন এ প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হূদয় খান। অ্যালবামের গানগুলো হলো—‘আড়াল’, ‘মেঘ’, ‘কত কাঁদাবে’, ‘বলো না ভালোবাসি’, ‘ছুঁয়ো না আমায়’, ‘তোমাকেই শুধু চাই’, ‘অসহায় মন’ ও ‘কে এসে দেখে যায়’। এরমধ্যে ‘তোমাকেই শুধু চাই’ গানটি দ্বৈতকণ্ঠে হূদয় খানের সাথে গেয়েছেন মিমি। তিনি জানান, গানের পাশাপাশি অ্যালবামটির দুটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে। গান দুটির শিরোনাম হচ্ছে, ‘আড়াল’ ও ‘মেঘ’। সুর ও সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি বিশাল বাজেটের এই মিউজিক ভিডিও দুটির নির্দেশনা দিয়েছেন হূদয় খান। এই অ্যালবামের গানের কথা লিখেছেন মিলন মাহমুদ ও মাহবুব আর গুঞ্জন। একক অ্যালবামের পাশাপাশি মিমি মিশ্র গানের সাতটি অ্যালবামেও কণ্ঠ দিয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আরমান খান ফিচারিং ‘কানামাছি মৌমাছি’ অ্যালবামের আইটেম সঙ ‘নেশা’ ও দেশের গানের মিক্সড অ্যালবাম ‘শান্তির সাদা কবুতর’। শুধু অ্যালবাম বা স্টেজ শো’তে পারফর্ম করেই থেমে থাকেননি মিমি। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করছেন দীর্ঘ আট বছর থেকে। চলচ্চিত্রে সব মিলিয়ে সাড়ে ৩শ’র মতো গান গেয়েছেন। চলচ্চিত্রে মিমির গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো হলো—‘বল না কবুল’ ছবিতে এস আই টুটুলের সাথে দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন ‘বল না কবুল’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া’ ছবিতে টাইটেল সঙ ‘পরান যায় জ্বলিয়া’, ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে ‘দুনিয়াটা রেলগাড়ি’, ‘তুমি কত সুন্দর’ ছবিতে ‘গতকালও একা ছিলাম’, ‘ছোট বোন’ ছবিতে ‘কোন জান্নাত থেকে প্রেম’, ‘মনে বড় কষ্ট’ ছবিতে কুমার বিশ্বজিতের সাথে ‘একটা মনের ইস্টিশনে’, ‘জগত্ সংসার’ ছবিতে ‘তুমি আমার হলে বন্ধু’ প্রভৃতি। গান নিয়ে কী পরিকল্পনা করছেন, তা জানতে চাইলে মিমি বলেন, ‘সারা জীবন গান গেয়ে যেতে চাই। ভালো ভালো গান গাইতে চাই। দেশের বিখ্যাত গীতিকার ও সুরকারদের সাথে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি একজন প্রকৃত সংগীতশিল্পী হতে চাই।’