বিজয়ের ব্যাটিংয়ে মান বাঁচল দক্ষিণাঞ্চলের
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০২
বছরের শুরুতেই হয়তো একটা সেঞ্চুরি পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি থেকে ২৪ রান দূরে আউট হয়ে গেলেন এনামুল হক বিজয়। এ নিয়ে আফসোস করতে পারেন বিজয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের কাছে বিজয় আফসোস নয়, মান বাঁচানো ব্যাটসম্যানের নাম। তার ফিফটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ইনিংসে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ২৪৮ রান তুলেছে। দিনশেষে ইসলামি ব্যাংক পূর্বাঞ্চল এক উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তুলেছে। পূর্বাঞ্চল এখনো ১৯৮ রানে পিছিয়ে আছে।
আগের তুলনায় কুয়াশা কম থাকায় গতকাল বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সময়মত বিসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়। তবে দিনের শুরুতেই ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল। সেটাই কাটিয়ে ওঠে তারা বিজয় ও ইমরুল কায়েসের ব্যাটিংয়ে। লাঞ্চের আগে কায়েস ও মিথুনকেও হারিয়ে ফেলে দক্ষিণাঞ্চল। লাঞ্চের পরও দিনের দ্বিতীয় সেশনটা বেশ খারাপ কেটেছে দক্ষিণাঞ্চলের। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের লেগ স্পিনার ইয়াসিন আরাফাতের স্পিন বিষেই দ্বিতীয় সেশনে পাঁচ উইকেট খুইয়ে ফেলে দক্ষিণাঞ্চল। লড়াই করছিলেন বিজয়, তিনিও শিকার হয়েছেন আরাফাতের। নিজের আউট নিয়েও বিরক্ত বিজয়, ‘আমার এভাবে আউট হওয়া ঠিক হয়নি। ইচ্ছা ছিল বড় ইনিংস খেলার। কিন্তু পারিনি’।
গত বছর বেশ ভালো সময় কেটেছে বিজয়ের। জাতীয় লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। তিনটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তার। দীর্ঘ পরিসর ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ২৪টি ম্যাচ খেলেছেন, হাফ সেঞ্চুরি করেছেন সাতটি। তাই কাল সেঞ্চুরি না হওয়ায় আফসোস করেছেন, ‘বেশির ভাগ ম্যাচে আমার হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। এবারো ভেবেছি বড় ইনিংস খেলে বছর শুরু করবো। তবে আমার চেষ্টা থাকবে এ বছরও যেন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি’।
বিজয় ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তুষার ইমরান ৩১ রানে ফিরে যাওয়ার পর মিডল অর্ডারের কেউ বিশের উপরে রান পাননি। শেষ উইকেট জুটিতে কামরুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম ৫২ রানের পার্টনারশীপ গড়ায় মান বাঁচে দক্ষিণাঞ্চলের। ইয়াসিনের কাছ থেকে পূর্বাঞ্চল পেয়েছে চার উইকেট। আর নাবিল সামাদ নিয়েছেন দুই উইকেট।
শেষ সেশনটা ধরে খেলার চেষ্টা করলেও পূর্বাঞ্চলের শাহরিয়ার নাফীস সোহাগ গাজীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন। নাফীস ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের শুরু করলেও দিনশেষে উইকেট দিয়ে আসেন শাহরিয়ার। রাজিন সালেহ চার রানে ও নাফীস ইকবাল ১৭ রানে অপরাজিত আছেন।
প্রথম রাউন্ডে প্রথম ইনিংস পিছিয়ে থাকার কারণে ম্যাচ ড্র হওয়া সত্ত্বেও এক পয়েন্ট পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। বগুড়ায় ম্যাচ নিষ্প্রাণ ড্র করায় তিন পয়েন্ট পেয়েছে পূর্বাঞ্চল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ৭৩ ওভার ২৪৮/১০ (এনামুল ৭৪, তুষার ৩১, রবিউল অপ:৩৯, কায়েস ২০, সোহাগ ১৮, কামরুল ১৬, রাজ্জাক ১৪, ইয়াসিন ৪/৫০, নাবিল ২/৪৬)।
ইসলামি ব্যাংক পূর্বাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ১৫ ওভার ৫০/১ (নাফীস অপ: ১৭, শাহরিয়ার ১২, রাজিন অপ:৪, সোহাগ ১/৩)।
প্রথম দিন শেষে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ১৯৮ রানে এগিয়ে।