২১ বছরেও সাক্ষী নেই, শেষ হয়নি হত্যা মামলার বিচার

রাজধানীর ডেমরায় ১৯৯৮ সালে ঘটা একটি হত্যা মামলায় ২১ বছরেও কোনো সাক্ষী হাজির করা যায়নি। ফলে বিচার শেষ না হওয়ায় মামলাটি জাদুঘরের রাখার অবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। কেন বিচার শেষ করা যায়নি সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা মহানগর পঞ্চম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লবকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৮ মে ওই মামলার নথি নিয়ে তাকে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এক আসামির জামিন শুনানিতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি নজরে আসায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

জানা গেছে, অজামিনযোগ্য পরোয়ানা ইস্যু করেও হাজির করা যায়নি কোনো সাক্ষীকে। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বিচার শেষ হয়নি হত্যা মামলাটির। দীর্ঘ এই সময়ে একাধিক বিচারক দায়িত্ব পালন করেছেন। আদালত বলেন, মামলাটি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে জাদুঘরে রাখার মতো। এভাবে চললে বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।

জানা যায়, ডেমরায় ১৯৯৮ সালের ১৬ মার্চ হযরত আলীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একইসঙ্গে মাসুদ হোসেন ব্রিটেন নামের আরেক যুবকের দুই হাত কেটে নেওয়া হয়। ওইদিন নিহতের পিতা শওকত আলী ফকির বাদী হয়ে ডেমরা থানায় মামলা করেন। মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। নিম্ন আদালতে ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট বিচার শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করে আদালত। একের পর এক দিন ধার্য হচ্ছে কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণ করে বিচার শেষ করা যাচ্ছে না।