ভাঙ্গুড়ায় সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষ

পাবনা ভাঙ্গুড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ইরি প্রকল্পগুলো এখন সরিষা ফুলে সমৃদ্ধ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদের সমারোহ। বন্যার পানি নেমে যাবার পর ইরি ধানের চারা রোপণের পূর্বে এখানকার জমিতে বপন করা হয় সরিষা বীজ। সরিষা গাছ বড় হবার পাশাপাশি এর মাথায় ফোটে হলুদ ফুল। আর এই ফুল মধু উত্পাদনের প্রধান উত্স। এলাকার বেকার যুবকরা সরিষা ক্ষেতে শুরু করেছে কৃত্রিম মৌ চাষ। অষ্টমণিষা , দিলপাশার ও খানমরিচ ইউনিয়নের সরিষা ক্ষেতে প্রবেশ করলে দেখা যায় এরকম অসংখ্য খামার। পাশের একটি ফাঁকা জমিতে সাড়িবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে মৌমাছির বাক্স। দিনের বেলায় মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে মৌ সাজায়। এক সপ্তাহের মধ্যেই মধুতে ভরে ওঠে মৌচাক। ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অষ্টমণিষা ইউনিয়নের বড় বিশাকোল গ্রামে চোখে পড়ে এমনি এক মৌ খামার। এখানে ১৬০টি বাক্সে মৌমাছি চাষ করা হয়েছে। খামারি মনিরুজ্জামান (৩৫) বলেন, তার খামারে সপ্তাহে ১২মণ মধু উত্পাদন হয়। এর পিছনে লোক খাটে ৪ জন। এভাবে একটি মৌসুমে ১১২ মণ মধু তিনি পান। এতে মোট খরচ হয় ৭২ হাজার টাকা। মৌসুমের সময় প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদে তার আয় হয় ৬ লাখ টাকা। সরিষা ফুলের মধু যেমন খাঁটি তেমনি সুস্বাদু। মানের দিক থেকেও উন্নত হয়। এ মৌসুমে মধুর চাহিদাও বেশি থাকে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মধু উত্পাদনে ব্যাপক সাফল্য হয়। তবে মৌমাছি সংরক্ষণে অনেক সময় তাকে সংকটে পড়তে হয়। বিশেষ করে প্রচণ্ড শীতে অনেক মাছি মারা যায়। এছাড়া রোগে আক্রান্ত হলে চিকিত্সা করাও সম্ভব হয় না। এজন্যে তিনি প্রাণীসম্পদ বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।