চলনবিলে চরমপন্থিদের নীরব চাঁদাবাজি
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩১
সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ চলনবিলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কথিত চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামে গ্রামে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। এ দিকে চরমপন্থিদের নীরব চাঁদাবাজি বন্ধে গত সোমবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা শেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরমপন্থি অধ্যুষিত তাড়াশের দেশীগ্রাম ও তালম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে চরমপন্থিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সন্ধ্যার পর ওই সকল এলাকায় ৪০-৪৫ জনের কথিত চরমপন্থি দল ভয়-ভীতি দেখিয়ে নীরবে চাঁদাবাজি করছে। তারা ধনিক শ্রেণির কৃষকের কাছ থেকে ৫-১০ হাজার, মধ্যবিত্ত শ্রেণির কৃষকের কাছ থেকে ১-২ হাজার, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকের কাছ থেকে ১০০-৫০০ টাকা আদায় করছে।
তাড়াশ থানার ওসি আব্দুর রফিক জানান, তিনি এ থানায় নতুন এসেছেন। আসার পর চরমপন্থি অধ্যুষিত ওই সকল এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু এদের ব্যাপারে গ্রামবাসীরা তথ্য দিতে চায় না। গ্রামবাসীর সহযোগিতা পেলে চরমপন্থিদের দমন করা সহজ হতো।
আশির দশক থেকে পথঘাটহীন প্রত্যন্ত চলনবিল অঞ্চলে সর্বহারাদের আস্তানা গড়ে উঠে। পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি, জনযুদ্ধ সর্বহারা পার্টি (লাল পতাকা) বিভিন্ন নামে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। গত দুই দশকে চরমপন্থিরা এ এলাকায় ১৯৮৬ সালে গুরুদাসপুর থানা লুট, ২০০৪ সালে রাঁধুনীবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ি লুট, ২০০৫ সালে সিংড়া উপজেলার বামিরহাল পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্র লুট ও দু’জন আনসারকে গুলি করে হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
১৯৮৯ সালে তাড়াশ উপজেলার কুন্দাশন গ্রামে পুলিশ ও চরমপন্থিদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ সময় এলাকার চরমপন্থি শীর্ষ নেতা বংকেশ গ্রেফতার হয়। ১৯৯২ সালে তালম ইউনিয়নের জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী হাসানকে গুল্টা হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে চরমপন্থিরা হত্যা করে। একই বছর রানীরহাটে আনু ডাকাত নামে এক ব্যক্তিকে চরমপন্থিরা গুলি করে হত্যা করে।
১৯৮৮ সালে উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে এবং ২০০৬ সালে লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে। ১৯৯০ সালে মোস্তফা কামাল এবং ১৯৮৭ সালে আফসার আলীকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে চরমপন্থিরা বিয়াস বাজারে আব্দুল ওহাব, নিত্যঞ্জয়, জুলমত আলী ও দুদু মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। ২০০৮ সালে পাড়িল বড়ইচড়া গ্রামে কৃষক আনিছকে চাঁদা না দেয়ার অপরাধে গুলি করে হত্যা করে। ২০০৮ সালে আবারও দেশীগ্রাম ইউনিয়নে কাটাগাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদকে গুলি করে হত্যা করে। রায়গঞ্জ উপজেলার ধুপিল ইউনিয়নের আমসারা গ্রামের নুজাব আলী আকন্দ, বরাত আলী মেম্বর, গুপিনাথপুর গ্রামে শুকুর আলী, ময়ান আলী সরকার, বোয়ালিয়া গ্রামে ডাকাত গফুর ও দুলালকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যাসহ প্রায় শতাধিক লোক চরমপন্থিদের হাতে নিহত হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর তাড়াশ উপজেলার গুড়পিপুল গ্রামে চরমপন্থিদের সাথে পুলিশের দুই ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময় হয়, এতে দুই বিভাগীয় চরমপন্থি ক্যাডার বামিহাল পুলিশ ফাঁড়ির লুণ্ঠিত অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। চরমপন্থিরা চলনবিলের প্রায় শতাধিক মানুষকে হত্যা করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে।