নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক প্রচারণা
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদিও অনিশ্চিত তারপরও যারা ওই নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান তারা গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার- প্রচারণায় ইতিমধ্যেই সরব হতে শুরু করেছে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসন।
নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনকে বলা হয় বিএনপির দুর্গ। এর পেছনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের অবদান কম নয়। কোন্দলের কারণে ১৯৭৩ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বেগমগঞ্জ আসনে জয়ী হতে পারেনি। দুই-একবার জয়ী হবার সম্ভাবনা দেখা দিলেও গ্রুপ রাজনীতির কারণে জয়ী হতে পারেনি। বেগমগঞ্জ আওয়ামী লীগে তিন গ্রুপ বর্তমানেও সক্রিয় রয়েছে।
বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং থাকলেও তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেয়। আওয়ামী লীগ ভিন্ন গ্রুপের প্রার্থীকে হারানোর জন্য প্রতিপক্ষকে ভোট দেয়। নতুন কোন প্রার্থী মনোনয়ন পেলে তাকেও মনের দিক দিয়ে গ্রহণ করতে পারে না—এমনই জনশ্রুতি আছে।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌমুহনীর মেয়র এবং ২০০৮ সালের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শিল্পপতি মামুনুর রশীদ কিরণ, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, ইন্ট্রামেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. এ বি এম জাফর উল্যার ভাই এ টি এম এনায়েত উল্যা, ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুত্ফুন্নাহার মুন্নী বেশ কিছুদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রথমোক্ত দুইজন বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে সহযোগিতা করাসহ নানাভাবে গণযোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় প্রার্থী অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেকে জানান দিচ্ছেন। উপরোক্তদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা সকলেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান।
আরেকটি কথা, বেগমগঞ্জে জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে ২০০৮ সালে বেগমগঞ্জ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও সাবেক সেনা প্রধান মইন উ আহমদের অনুজ মিনহাজ আহমদ জাভেদ আওয়ামী লীগে যোগদান করে মনোনয়ন নিতে পারেন।
বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্যা বুলু বেশ কিছুদিন পূর্বে কয়েক হাজার লোক জমায়েত করে চৌমুহনীতে শো-ডাউন করে নিজের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছেন। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাযহারুল ইসলাম দোলন বেগমগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন লাভের আশায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ নিজেকে পরিচয় করাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ডা. মাযহারুল ইসলাম দোলনের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টার ও দেয়াল লিখন শোভা পাচ্ছে। তাছাড়া সাবেক এমপি ও পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মেজর (অব.) ডা. রেজাউল হকও নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন, এই আসনে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিবে তিনিই জিতে যাবেন। এখানে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি উপেক্ষা করার মতো নয়। যেহেতু জামায়াত ১৮ দলীয় জোটবদ্ধ সেহেতু তাদের প্রার্থী সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া কঠিন। তবে জামায়াতের এককভাবে নির্বাচন করারও ক্ষমতা রয়েছে। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাংগঠনিক ভিত্তি তেমন দেখা যায় না। অন্যান্য পার্টির বেলায়ও একই অবস্থা। মোটকথা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনে নির্বাচনী আমেজ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এদিকে আওয়ামী লীগও দশ বছর পর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন করে কমিটি পুনর্গঠন করে নেতা-কর্মীদের কিছুটা হলেও চাঙ্গা করেছে।