টাঙ্গাইল শহরে লেগেই থাকে যানজট
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪০
টাঙ্গাইল শহরে প্রায় সময়ই যানজট লেগে থাকে। শহর এখন যানজটের শহর হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। নতুন বাসটার্মিনাল, পুরান বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আদালত এলাকাসহ বিভিন্ন অফিস আদালতে যাতায়াত করতে হয় নতুন বাসটার্মিনাল হয়ে। দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হতে হয় এসব অফিসে কর্মরত মানুষদের।
দুই লেনের এক রাস্তা দিয়েই রিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটো, মোটর সাইকেল, ট্রাক, বাস চলাচল করে। বাসটার্মিনালে গাড়ি ঘুরানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে রাস্তার উপর বাস-অটো আটকে যানজটের সৃষ্টি হয়।
যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকাসহ দক্ষিণবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তখন টাঙ্গাইল শহরের উপর দিয়ে চলতে থাকে এসব গাড়ি। শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে নির্মাণ করা হয় শহর বাইপাস সড়ক। বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দিয়ে আসা-যাওয়ার সব গাড়ি ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে শুরু করে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শহরকে আরো যানজটমুক্ত ও দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন বাসটার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী সব বাসকে মূল শহর দিয়ে চলাচল বন্ধ করা হয়। টার্মিনাল থেকে উত্তরদিকে রাবনা বাইপাস দিয়ে ঢাকা যাতায়াত শুরু করে এসব বাস। তাছাড়া টার্মিনালের বাইরে এসে যাত্রী উঠানামাও বন্ধ হয়ে যায়। সব বাস টার্মিনালের ভেতর শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পার্ক করা হয়েছে। তখন শহরে যানজট একেবারে কমে যায়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরেই আবার পূর্বের মতো বাসের এলোমেলো অবস্থান এবং রাস্তায় যাত্রী উঠানামানো শুরু হয়। বছর দুই আগে হঠাত্ করেই শহরে ব্যাটারি চালিত অটোর সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত অটো চলাচল এবং বাসের এলোমেলো অবস্থানের কারণে যানজটও সৃষ্টি হতে থাকে। এর ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রী ও পথচারীদের।
মিজানুর রহমান, শরীফ খান, ফারুক হোসেনসহ টার্মিনালের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এখানে (টার্মিনাল) কোন শৃঙ্খলা নেই। কেউ কারো কথা শোনে না। যার যার মতো চলাচল করে। সবাই আগে যেতে চায়। এই প্রতিযোগিতার কারণে আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষদের। যানজট নিরসনের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অটোচালক মাসুম খান বলেন, টার্মিনালের গাড়ি রাস্তার উপর ঘুরানো হয়। তখন রাস্তা আটকে দুই পাশে যানজট বেঁধে যায়। তাছাড়া অধিকাংশ অটোচালক ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না। রাস্তার উপর যাত্রী নামিয়ে সেখানেই ঘুরানোর চেষ্টা করে। রাস্তার তুলনায় গাড়ি ও অটোর সংখ্যা অনেক বেশি। এ জন্যই যানজট হয়। বাসচালক রতন মিয়া বলেন, বড় গাড়ি আর অটো এক রাস্তায় চললে সমস্যা হবেই। অটো ছোট হওয়ার কারণে একটু ফাঁকা জায়গা পেয়ে সেখান দিয়েই পার হতে চায়। তখন আটকা পড়ে জ্যাম সৃষ্টি হয়। রিকশা, অটোর জন্য আলাদা রাস্তা দরকার।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল শহরে সিএনজি চালিত এক হাজার অটোর অনুমোদন থাকলেও প্রায় ছয় হাজার অটো চলাচল করছে। টাঙ্গাইলে নতুন রেজিস্ট্রেশন না দিলেও অন্য জায়গা থেকে রেজিস্ট্রেশন এনে এখানে চলছে। ব্যাটারি চালিত অটো চলছে প্রায় তিন হাজার। অথচ এদের জন্য কোন স্ট্যান্ড নেই। শহরের বহুতল ভবনে পার্কিং-এর ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো অন্যভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভবনের সামনে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা হয়। ফলে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সব ধরনের অটোর নতুন রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখলে এবং অটো স্ট্যান্ড করলে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। বহুতল ভবনে পার্কিং-এর জায়গা গাড়ির রাখার জন্যই ব্যবহার করতে হবে।