কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢুকছে মাদক
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৩
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ এবং গাঁজা। বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের অভিযানে কিছু মাদক ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সিংহভাগ মাদক মজুদ ও পাচার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সীমান্তের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ, মোহাম্মদপুর, ডাঙ্গেরপাড়া ও তালপট্টি, চিলমারী ইউনিয়নের মরারচর, হবিরচর, উদয়নগর ও বাংলাবাজার, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গরুড়া, ধর্মদহ, তেকালা, প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া, প্রাগপুর, চরপ্রাগপুর, ময়রামপুর, মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া ও জামালপুর ভাঙ্গাপাড়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এবং কোথাও নদীপথ দিয়ে দিনে ও রাতে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ও মদসহ বিভিন্ন মাদক ।
এলাকাবাসী জানায়, প্রথমে মাদক বহনকারীরা সীমান্তের ওপার থেকে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য বস্তায় নিয়ে সাঁতরে নদী পার হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে সেগুলো পৌঁছে দেয়। এরপর তারা সুবিধামতো তৃতীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় এবং তৃতীয়জন তা পৌঁছে দেয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। তারা আরো জানায়, যেখানে কাঁটাতার আছে সেখানে ভারতীয়রা ছোট ছোট পুঁটলি বেঁধে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ওপার থেকে এপারে ছুঁড়ে ফেলে এবং বাংলাদেশি মাদক ব্যবসায়ীরা সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তাদের গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে। তবে মাদকদ্রব্যের ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তারা কিছুটা আগে গোপনীয়তা রক্ষা করলেও বর্তমান সময়ে তা ওপেন সিক্রেট। স্থানীয় এক ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে সীমান্তের মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, আবেদের ঘাট এবং ভাগজোত এলাকার এক ডজন ব্যক্তি নিজেদের আইন-শৃংখলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এসব পণ্য চোরাচালানে সহায়তা করে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা আদায় করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের সাথে মাদক চোরাকারবারিদের সম্পর্ক আছে সে কারণে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মাদকসহ কাউকে আটক করলেও বেশিরভাগই থানায় নিয়ে যাবার পথে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ওসি জাহির হোসেন সীমান্তের ওপার থেকে মাদক আসার কথা স্বীকার করে জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্য থাকা সত্ত্বেও কিভাবে দেশের ভিতরে মাদক প্রবেশ করছে তা তার বোধগম্য নয়। সীমান্তে হঠাত্ মাদক চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিজিবির ৩২ ব্যাটালিয়নের সিও লে: কর্নেল আরমান হোসেন চৌধুরী জানান, কুষ্টিয়ার ১৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে ৬৫ কিলোমিটারই নদীপথ। এই ৬৫ কিলোমিটার নদীপথ এলাকায় ৪ টি বিওপিতে ৬৪ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্বরত আছে। পাশাপাশি নদীপথে চোরাচালান রোধে ৪ টি জলযান যুক্ত করা হলেও সীমান্তের উভয় পথে মাদক চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, আগের চেয়ে চোরাচালান কমে এসেছে। এরপরও নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোরাচালান রোধে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।