৫৯০ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিজিএমইএ

কারখানায় কমপ্লায়েন্স (কর্মপরিবেশ) রক্ষা করতে না পারাসহ নানা কারণে ৫৯০টি কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সম্প্রতি বিজিএমইএ’র বোর্ড সভায় এ সব কারখানার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিন দফা চিঠি দেয়ার পরও তারা বিজিএমইএ’র সাথে যোগাযোগ করেনি এবং বোর্ড সভায় উপস্থিত হয়নি। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের বৈঠকে আরো শতাধিক কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এছাড়া বোর্ড সভায় শ্রমিকদের বীমা ১ লাখ টাকার স্থলে ২ লাখ টাকা, কারখানার বাইরেও কোন দুর্ঘটনায় মারা গেলে যাতে তারা বীমার ক্ষতিপূরণের টাকা পায়, ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্টস কারখানার জন্য গার্মেন্টস পল্লী নির্মাণ কাজ দ্রুততর করা, শ্রমিকদের জন্য নির্মাণাধীন ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং কমপ্লায়েন্সের শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উপর বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বিজিএমইএ’র সহসভাপতি ফারুক হাসান এ বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, বাতিল হওয়া সব প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্স না মানা ছাড়াও এ তালিকায় বন্ড লাইসেন্স হালনাগাদ না করা, ক্রমাগত লোকসান দেয়া, দেউলিয়া হওয়া, সচল নয় এমন কারখানাও রয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে কোন অস্তিত্বই নেই। ফারুক হাসান বলেন, কমপ্লায়েন্সের শর্ত মানে না এরকম ঝুঁকিপূর্ণ আরো শতাধিক কারখানার সদস্যপদ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের বোর্ড সভায় বাতিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার সংখ্যা অনেক বেশি। ফারুক হাসান অভিযোগ করে বলেন, কমপ্লায়েন্সহীন কারখানার কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বায়াররাও দায়ী। তারা অনেক সময় এসব বিষয়ে ছাড় দেয়। এর দায় বিজিএমইএ’র উপর এসে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকা, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে এখনো এক হাজারের উপরে কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিজিএমইএ এসব কারখানাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। গতকাল বুধবার বিজিএমইএ’র সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল জলিলের সাথে বৈঠক করেছেন। সহসাই মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় গার্মেন্টস শিল্প পল্লী স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চান তারা। এ জন্য অর্থায়নের লক্ষ্যে নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন।