মার্কিন কংগ্রেসে বিল পাস ধনীদের কর বাড়বে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি গভীর সংকট থেকে রক্ষা পেল। সংকট কাটাতে শেষ মুহূর্তে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের সমঝোতায় কংগ্রেসে পাস হয়েছে একটি বিল। সিনেটে অনুমোদনের পর গতকাল বুধবার রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদে ২৫৭-১৬৭ ভোটে পাস হয়। এর ফলে ধনীদের ওপর কর বাড়বে। আর ব্যয় সংকোচনের বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নিতে আরো দুই মাস সময় পাওয়া গেল। -খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। বিলটি পাসের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টার অংশ হিসেবে এটি কেবল একটি পদক্ষেপ। ফলে আপাতত শান্তি ফিরে এসেছে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মাঝে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী নতুন বছরের প্রথমদিন মঙ্গলবার সকালে (বাংলাদেশ সময় বুধবার) প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়। এর আগে সোমবার মধ্যরাতে সিনেটে ৮৯-৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির পক্ষে ডেমোক্র্যাট দলের ১৭২ জন এবং রিপাবলিকান দলের ৮৫ জন সদস্য ভোট দেন। রিপাবলিকানদের ১৫১ এবং ডেমোক্র্যাটদের ১৬ জন বিলের বিপক্ষে ভোট দেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা শিগগিরই বিলটিতে সই করবেন বলে জানা গেছে। এরপর বিলটি আইনে পরিণত হবে। কয়েক মাসের উত্কণ্ঠা, কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক আর কয়েক দিনের আলোচনা শেষে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। বিলটি পাসের ফলে মধ্যবিত্তদের করের হার বাড়ছে না? যিনি বেকার ভাতা পাচ্ছিলেন সেটা বন্ধ হবে না। সামরিক আর চিকিত্সা খাতে যে ব্যয় সংকোচন হওয়ার কথা ছিল সেটাও হচ্ছে না। এ আইনানুযায়ী, ধনীদের ওপর কর কিছুটা বাড়বে। এর মাধ্যমে ওবামার ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো। সোমবার হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ আলোচনার পর নতুন বছর শুরুর একেবারে শেষ মুহূর্তে এ আইনের ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা। তবে বাজেটের ব্যয় কাটছাঁটের বিষয়টিতে আরো বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে তা দুই মাস পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলের কর সুবিধা আইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে সোমবার মধ্যরাতে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন না হলে নতুন বছরে কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় হ্রাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যেত। পাশাপাশি ব্যয় কমানোর জন্য বাজেট হ্রাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো, আর তাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক খাতগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। একেই বলা হচ্ছে ‘ফিসক্যাল ক্লিফ’। কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ায় সে আশঙ্কা আর নেই। দুশ্চিন্তায় ওবামাসহ অনেকে ঠিকমতো বড়দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারেননি। নতুন বছর তাদের জন্য কী বয়ে আনছে সে সম্পর্কেও অনিশ্চয়তায় ছিল মার্কিন নাগরিকরা। অর্থনীতিবিদরাও সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ফিসক্যাল ক্লিফ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে দেশটির অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ অনেক উল্লেখ করে ওবামা বলেন, রাজনীতির ওপর জোর না দিয়ে আমাদের দেশের জন্য যা উপকারী তার ওপর জোর দিতে হবে। বিলটি পাস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ২ ভাগ ধনীর ওপর কর বাড়বে। আর মধ্যবিত্তদের করের বোঝা কমবে। এতে রাজস্ব বাড়বে ছয়শ’ বিলিয়ন ডলার।