সাতক্ষীরায় ৫ হাজার গ্রাহক
সরকারের সহায়তা চান
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৬
প্রতি লাখে মাসে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি এম এল এম কোম্পানি প্রায় ১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় পথে বসেছে সাতক্ষীরার সাড়ে পাঁচ হাজার গ্রাহক। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে মুনাফার টাকা না দিয়ে পালিয়ে গেছে জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এ্যান্ড কমার্স এমসিএস নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কর্মকর্তারা। এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির এমডি শরিফুল ইসলামকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হলেও হাজার হাজার গ্রাহক তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।
গতকাল বুধবার প্রতারণার শিকার শতাধিক নারী-পুরুষ গ্রাহক সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, টাকা হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকে সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে মুনাফার আশায় টাকা তুলে দিয়েছিলেন এই কোম্পানির কাছে। এখন সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছেন। টাকা আদায়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। প্রতারিত গ্রাহকদের পক্ষে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল ওহাব লিখিত বক্তব্যে জানান, ‘ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত’ এই ওয়াদা করে জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এ্যান্ড কমার্স এমসিএস নামে প্রতিষ্ঠানটি সুদ নয়, মুনাফা প্রদানের শর্তে সাতক্ষীরার গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০৯-এর ৫ জানুয়ারি নগদ টাকা গ্রহণ শুরু করে। সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের প্রতিমাসে মুনাফা বাবদ লাখপ্রতি আড়াই হাজার টাকা দিতে থাকে। ২০১২-এর ১ জুন থেকে এক সার্কুলারে জানিয়ে দেয়া হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোন মুনাফা দেয়া হবে না। এ খবর শুনে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত ওঠে। তারা বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পেতে দেন-দরবার শুরু করেন। কোম্পানির আওতায় রয়েছে মাসিক মুনাফা, জয়েন্ট ডিপোজিট, ডাবল বেনিফিট ডিপোজিট, লাখপতি ডিপোজিট, জয়েন্ট মিলিওনেয়ার, হাউজ বিল্ডিং, হজ্জ্ব ডিপোজিট, জয়েন্ট বিজনেস, মাসিক সঞ্চয়, ডিপোজিট পেনশন এবং লাইফ ডিপোজিট স্কীম নামের ১১টি প্রকল্প।
প্রথমে তারা নির্দিষ্ট মুনাফা পেতে থাকায় জেলার আরও গ্রাহক আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এক পর্যায় সাতক্ষীরায় পাঁচ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটিতে তাদের সঞ্চয়ের অর্থ বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে শহরের সুলতানপুরের আরিফুজ্জামান ৫০ লাখ টাকা, আশরাফ মেম্বর ৩৭ লাখ টাকা, হিরু মিয়া ২৫ লাখ টাকা, কাদের লস্কর ১০ লাখ টাকা, সোহরাব হোসেন ৮ লাখ টাকা, বারী সানা ৮ লাখ টাকা, আবু তাহের ৬ লাখ টাকা, আব্দুস সবুর ৫ লাখ টাকা, আকবর আলী ৫ লাখ টাকা, রেহেনা খাতুন আড়াই লাখ টাকা, তাসলিমা খাতুন ১ লাখ টাকা, আব্দুস সেলিম ৩ লাখ টাকা, আব্দুল ওহাব ২ লাখ টাকা, সিরাজুল ইসলাম দেড় লাখ টাকা, কওসার গাজী আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে পথে বসেছেন। তারা এখন মুনাফা নয়, তাদের মূল টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ।
ভুক্তভোগীরা ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতক্ষীরা কারাগারে আটক শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।