সন্ত্রাস-যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার প্রস্তাব সংসদে গৃহীত

সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলা এবং নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সংসদে গতকাল সোমবার সরকারি দলের সদস্য কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ (১) বিধি অনুসারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনকে প্রতিহত করার নামে মানুষকে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা শিখিয়েছে বিএনপি জামায়াত।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলায় আমার নাতি জায়ান জীবন দিয়েছে, জামাতা আহত হয়ে চিকিত্সাধীন। সে একটা নিষ্পাপ শিশু, তাকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হতে হয়েছে। নুসরাতকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর তত্কালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনাকে বার বার সময় চাওয়ার পরও সংসদে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ধর্মান্ধতা মনুষ্যত্ব ও মানবতাকে খেয়ে ফেলছে। এটাকে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি নুসরাত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান। একই সঙ্গে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানান।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা বলেন, নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ধর্মকে যখন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয় তখনই সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, হিংসা ও সন্ত্রাসের জন্ম হয়।

আলোচনায় আরো অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, শাজাহান খান, মেহের আফরোজ চুমকী, এ্যারোমা দত্ত, বিরোধী দলের সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, বিএনপির সদস্য হারুনুর রশীদ, জাসদের সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদল, শিরিন আক্তার ও গণফোরামের সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।