কুরআন তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৯
পবিত্র কুরআন মাজিদ আল্লাহর কালাম। কুরআন মাজিদ আরবী ভাষায়। আরবীতে আছে ঊনত্রিশটি অক্ষর যেগুলো পড়তে পারলে আমরা কুরআন মাজিদ শিখতে পারবো। হাদীসে আছে ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে কুরআন মাজিদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।” আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি সর্বদা কুরআন শরীফ তেলওয়াত করবে কেয়ামতে এটা তার জন্য সুপারিশ করবে। কুরআন সব সময় অর্থ বুঝে পড়া ভালো। কুরআন আরবিতে পড়লে তার কিছুই অনেকে বুঝেন না। কিন্তু এর অর্থ বুঝে পড়লে আমরা সহজে বুঝতে পারব যে কি নির্দেশ করা হয়েছে। তাই আমরা অল্প করে হলেও যেটুকু পড়ব তার অর্থ বুঝে পড়ব। হাদীসে আছে যার সিনার মধ্যে একটুও কুরআন নাই তার তুলনা একখানা বিরান ঘরের মত। যে ব্যক্তি স্পস্টভাবে অনায়াসে কুরআন পড়তে পারে সে ব্যক্তি ঐ সমস্ত ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে যারা বড়ই পবিত্র, বড়ই সম্মানিত এবং যারা লোকের আমলনামা শেখেন। অন্য হাদীসে আছে, যিনি কুরআন তেলাওয়াত করেন তার এক সওয়াব এবং যিনি এই কুরআন মনোযোগ দিয়ে শোনেন তার সমান সওয়াব। এজন্য কুরআন পড়ার সময় শব্দ করে পড়া ভালো। মহানবী (স.) বলেন, “তোমরা সর্বদা কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করতে থাক, কেননা, এ কুরআন কেয়ামতের ময়দানে তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে সুপারিশ করবে। কুরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য দয়া ও রহমতের বিষয়। এতে মানব জীবনের যাবতীয় কর্মপদ্ধতির পথ নির্দেশনা করা হয়েছে, যা তেলাওয়াত করে মানুষ সত্য-অসত্যের ব্যবধান বুঝে নিজের কর্ম পদ্ধতি ঠিক করে নিতে পারে। কুরআন আল্লাহর বাণী বলে একে স্পর্শ করার আগে পাক পবিত্র হয়ে অজু করে স্পর্শ করতে হয়। কুরআন তেলাওয়াতকালে তাড়াতাড়ি করে পড়া ঠিক নয়। বুঝে মাখরাজ ও হরফ ঠিক রেখে স্পষ্ট করে তেলাওয়াত করা উচিত। কুরআন তেলাওয়াত করার সময় পাক-পবিত্র জায়গায় পাক পবিত্র কাপড় পরিধান করা দরকার। সম্ভব হলে কেবলামুখী হয়ে তেলাওয়াত করা উত্তম। কুরআন দুনিয়ার সকল বস্তু থেকে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ। কুরআন তেলাওয়াতের সময় উঁচু জায়গায় বা রেয়ালে রেখে প্রথমে দুরুদ শরীফ পড়ে আউজুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ পড়ে কুরআন তেলাওয়াত করবে। আল্লাহ বলেন, পাক পবিত্রতা ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে। মহানবী (স.) বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেন যে ব্যক্তি কুরআন পড়ায় নিমগ্ন রয়েছে আমার কাছে কিছু চাইতে পারেনি তাকে আমি প্রার্থনাকারীদের চেয়ে উত্তম বস্তু দিয়ে থাকি। সকল কথার ওপর আল্লাহর কালাম, যেমন সমগ্র সৃষ্টির ওপর আল্লাহর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত (তিরমিযী শরীফ)। মহানবী (স.) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ মুখস্ত তেলাওয়াত করবে সে এক হাজার নেকীর ভাগী হবে আর যে ব্যক্তি দেখে তেলাওয়াত করবে সে দুই হাজার নেকীর ভাগী হবে (বায়হাকী শরীফ)। মহানবী (স.) বলেন, ফরজ ইবাদতের পর কুরআন মাজিদ তেলাওয়াত করাই সর্বোত্তম ইবাদত। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন মাজিদের ১টি অক্ষর তেলাওয়াত করবে সে ১০টি নেকী পাবে। আমি বলি না যে, আলিফ, লাম, মিম একটি হরফ বরং আলিফ একটি হরফ লাম একটি হরফ মিম একটি হরফ। এভাবে যদি কেউ আলহামদু পড়ে তবে এর পাঁচটি অক্ষরের পঞ্চাশ নেকী পাবে। সুতরাং আমাদের সবার উচিত প্রতিদিনের আমলের জন্য আমাদের অল্প অল্প করে হলেও কষ্ট করে এই আমল করা। প্রত্যেক মুসলমানেরই নিজেও কুরআন তেলাওয়াত করা এবং সন্তানদেরও এই কুরআন শিক্ষা দেওয়া একান্ত কর্তব্য। যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ নিয়মিত পড়ে এবং হেফ্জ করে, এর হালালকৃতকে হালাল এবং হারামকৃতকে হারাম মেন চলবে। আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত প্রদান করবেন। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন যে ব্যক্তি কুরআন মাজিদ শিক্ষা করেছে এবং সে অনুযায়ী আমল করেছে কেয়ামতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার পিতা-মাতাকে এমন নূরের টুপি বা মুকুট পরাবেন যার জ্যোতি সূর্যের জ্যোতির চেয়েও উজ্জ্বলতর হবে। কুরআন তেলাওয়াত কোন ফরয এবাদত না হলেও এর আমল অনেক। অধিক আমলের জন্য আমাদের কুরআন তেলাওয়াত করা প্রয়োজন। কুরআন তেলাওয়াত ইহকাল ও পরকাল উভয়ের কাজে আসে। দুনিয়াতে কুরআন তেলাওয়াতের ফলে মানুষের মন পবিত্র থাকে এবং পরকালে এটা নাযাতের কারণ হবে।