প্রাগপুর স্থলবন্দরের কাজই শুরু হয়নি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী প্রাগপুরে স্থলবন্দর বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই লক্ষ্যে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ দু’বছর হলো উপজেলার তারাগুনিয়া ত্রি-মোহিনীতে দিক নির্দেশনামূলক বোর্ড স্থাপন করেছে। অথচ বাস্তবে এখন প্রাগপুর স্থলবন্দরের কোন কাজই শুরু হয়নি। ফলে দৌলতপুর তথা কুষ্টিয়া জেলাবাসীর সন্দেহ- এই উদ্যোগ অনেকটা ধোঁকাবাজি কিনা। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের প্রাগপুর প্রান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার দূরত্ব মাত্র ১২০ কিলোমিটার। আর এখান থেকে ঢাকার দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটার। প্রাগপুর সংলগ্ন ভারতীয় অংশ শিকারপুর। এটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কাশিমপুর থানার অন্তর্গত। কুষ্টিয়ার সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক জানিয়েছেন, প্রাগপুর স্থলবন্দর বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি ও যোগাযোগ করা হয়েছে। এখানে স্থলবন্দর হলে এই অঞ্চলের তথা দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। জানা গেছে, পদ্মার ছোট্ট শাখা নদী মাথাভাঙ্গা দু’দেশের সীমানা ভাগ করে রেখেছে। নদীর এপারের পাড় ঘেঁষে প্রাগপুর বাজার। সেখানে বিজিবি প্রাগপুর কোম্পানী সদর অবস্থিত। এখান থেকে রাজধানী ঢাকাগামী বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। আর নদীর ওপারের পাড় ঘেঁষে ভারতের শিকারপুর। কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি একটি বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। আছে শিকারপুর থেকে কোলকাতা যাবার মহাসড়ক। প্রয়োজন শুধু ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। যে সেতুটি নির্মিত হলে দু’দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০১১ সালের ১ অক্টোবর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কুষ্টিয়া সফরে এসে প্রাগপুরে স্থলবন্দর করার ব্যাপারে খোঁজ নেন। এরই প্রেক্ষিতে ঐ মাসের ২৫ তারিখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মফিদুল ইসলাম প্রাগপুর পরিদর্শনে এসে সেখানে বন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে দেশে ৬টি নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে প্রাগপুর স্থলবন্দর অন্যতম। কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আফাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাগপুর স্থলবন্দরটি চালু হলে এখানকার নদী ভাঙন কবলিত হাজারো মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের অবারিত দ্বার উন্মেচিত হবে। এ কারণে আমি মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। আশা করছি অচিরেই বন্দরের কাজ শুরু হবে।