তালায় এক বছরে ৫৯ জনের আত্মহত্যা

২০১২ সালে তালা উপজেলায় গলায় রশি, বিষপানসহ বিভিন্নভাবে আত্মহত্যা করেছে ৫৯জন নারী-পুরুষ। এ ঘটনায় তালা থানায় ৩৯ এবং পাটকেলঘাটা থানায় ২০টি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আত্মহননকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। তাদের অধিকাংশ আবার ছাত্রী ও গৃহবধূ। চলতি বছর বিষপানে আত্মহত্যা করেছে তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামের শামীম সরদারের স্ত্রী শিরিনা খাতুন (২২), হাতবাস গ্রামের এছেম মোড়লের কন্যা ফিরোজা খাতুন (১৬), হোসেন গাজীর স্ত্রী তাছলিমা বেগম (২২), জেঠুয়া গ্রামের জামাল গাজীর কন্যা হিরা খাতুন (১৫), শাহাজাদপুর গ্রামের সাত্তার সরদারের স্ত্রী তাছলিমা বেগম (২৬), জেয়ালা নলতা গ্রামের বারেক জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী লাইলী বেগম (১৮) ধানদিয়া গ্রামের হরিপদ মল্লিকের স্ত্রী শিখা রানী (২২), সোনিয়া বেগম (২২)সহ অনেকই। উক্ত সব ঘটনায় তালা ও পাটকেলঘাটা থানায় পৃথকভাবে ৫৯টি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অনেকেই আত্মহত্যার হাত থেকে বেঁচে গেছে।এসব আত্মহত্যার পিছনে থাকে পারিবারিক শাসন ও নির্যাতন, পরকিয়া প্রেম, প্রেমের ব্যর্থতা, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, যৌতুক, পরীক্ষায় ফেল, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক বৈষম্য, অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারা, রোগযন্ত্রণা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যতা। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম জাহিরুল হাসান জানান, হাসপাতালে আত্মহত্যা প্রচেষ্টাকারী অনেক রোগী ভর্তি হয়। পুলিশ কেস খাতায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। তালা থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ‘পুলিশ কেস খাতা’ আছে কিন্তু হাসপাতাল থেকে আত্মহত্যার অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার কোন খবর অনেক সময় দেয়া হয় না। ফলে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে না। উক্ত ঘটনায় মামলা হলে এবং তাদের সাজা হলে অবশ্যই আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে।