মোবাইলে অপরাধ বাড়ছে
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৬
রাজধানীতে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবির ঘটনা নতুন নয়। আর এসব চাঁদা দাবীর অভিযোগ তদন্তে নেমে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ ওই সব নম্বারের কোন রেজিষ্ট্রেশনই নেই। আর দু’একটি রেজিষ্ট্রেশন পাওয়া গেলেও ঠিকানা ও ছবি সবই ভুয়া। সম্প্রতি এই ধরণের বেশ কিছু সিম বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। অনিবন্ধিত এই সব সিমের ওই হুমকিদাতা বা চাঁদাবাজকে অনেক সময় সনাক্ত করতে পারে না পুলিশ বা র্যাব। এ নিয়ে র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) বারবার বলা হয়েছে সিমের রেজিষ্ট্রেশন নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু এতদিন তা হয়নি। এবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বিটিআরসি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর মোবাইল অপারেটদের এক চিঠিতে বিটিআরসি এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে। চিঠিতে বিটিআরসি বলছে, সঠিকভাবে নিবন্ধন না করে কোনো সিম বিক্রি করা যাবে না। এর আগেও এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে অপারেটরদের। বিটিআরসি বলছে, সঠিক তথ্য প্রমাণ-ছবিসহ কাগজপত্র জমা দেয়ার পরে সেটি অপারেটর যাচাই বাছাইয়ে ক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হলেই কেবল বিক্রিত সিমটি ব্যবহার উপযোগী (অ্যাক্টিভ) হবে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এ বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে । অবশ্য ১২ অক্টোবরের পর সব প্রি-অ্যাকটিভেটেড সিম ও রিম (আগে থেকে চালু) বাজারে না দিতে বিটিআরসির আগে থেকেই নির্দেশনা ছিল।
তবে বোমাইল ফোন অপারেটররা বলছে, এমন কড়াকড়ির ফলে তাদের সিম বিক্রি সন্দেহাতীতভাবে কমবে। এমনকি সিম বিক্রি শূন্যে চলে আসতে পারে বলেও আশংকা করেছেন তারা। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আশংকা প্রকাশ করেছেন তারা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে দেয়া চিঠিতে বিটিআরসিতে বলেছে, সঠিভভাবে সিমের নিবন্ধন না হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই মোবাইল ফোন চুরি হওয়া, মোবাইলে উত্তক্ত করা, ব্লাক মেইলিং এবং দস্যুতার মতো অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে। কিন্তু তদন্তে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, রেজিষ্ট্রেশনহীন সিম ও ভুয়া রেজিষ্ট্রেশনের কারণে পুলিশের তদন্তে নানা ধারণের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশকে বিভিন্ন অপারাধের তদন্ত করতে গিয়ে বিশেষ করে টেলিফোনে চাঁদাবাজির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়তে হয় রেজিষ্ট্রেশনহীন সিম নিয়ে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে কোন সিমের রেজিষ্ট্রেশনের তথ্য চাইলে তারা বলেন, রিটেলাররা এখনও সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডটির রেজিষ্ট্রেশন ফরম ঢাকাতে পাঠাননি। ফলে তাদের পক্ষে রেজিষ্ট্রেশনের তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। এতে করে পুলিশ অনেক সময় অপরাধীকে সনাক্ত করতে পারে না। আর যেসব রেজিষ্ট্রেশনের তথ্য দেয় তাও একেবারেই ভুয়া। এমন সব নাম ঠিকানা ব্যবহার করা যেখানে এই নামে কোন ব্যক্তি বা ঠিকানাই নেই। ফলে বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের পদক্ষেপ নিতেও অনুরোধ করেছে পুলিশ।
বিটিআরসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, অপরাধ দমন করতে সঠিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিকল্প নেই। সঙ্গে এখন নতুন সংযুক্ত হতে যাওয়া সিমের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর মোবাইল ফোন অপারেটর রবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান বলেন, যে পদ্ধতিতে সিম বিক্রি করার কথা বলা হচ্ছে তাতে একজন গ্রাহককে সিম কিনেও কথা বলার জন্যে অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। এতে নতুন গ্রাহক অবশ্যই কমবে। তারা বিবেচনায় অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে হয়তো এটি প্রভাব ফেলবে কিন্তু তার নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহও রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশে নিবন্ধনের কড়াকড়ি থাকার পরেও অপরাধ থেমে নেই।