সীমান্ত বিরোধ চুক্তির জন্য জনমত তৈরি শুরু করা হবে

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ভারত খুবই ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিবেশী দেশ। এ দুই দেশের সীমান্তে হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক। গত দুইদিনে সীমান্তে যে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এর জন্য আমরা মর্মাহত ও দুঃখিত। অনেক সময় কিছু মানুষ আক্রমণ করার পরই বিএসএফ গুলি চালায়। তবে এক্ষেত্রে কারণ যাই হোক ঘটনাটি আমাদের পীড়া দিয়েছে। আমরা এটি বন্ধ করার চেষ্টা করছি। আগের তুলনায় এটি অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, ভারতের সংসদে গত শীতকালীন অধিবেশনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ভূমি বিরোধ চুক্তির বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি। তবে শিগগিরই এ চুক্তি সম্পাদিত হবে বলে আশা রাখি। এজন্য রাজনৈতিক পর্যায়ে জনমত তৈরির কাজ শুরু করা হবে। গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সন্দীপ চক্রবর্তী একথা বলেন। এর আগে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন। আয়োজন করে বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদ। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যেই ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। তবে ভারতে ঋতুর পরিবর্তন অনুযায়ী এ সরবরাহের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অনেক গভীর। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিকল্প নেই। কারণ বাংলাদেশ ভারতের আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক গন্তব্য একই। বাংলাদেশের সাথে ভারতের অনেক চুক্তি হয়েছে। অনেক চুক্তি এখনো হয়নি। সেগুলোও খুব দ্রুত হবে। সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ভারত সরকার ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার জন্য কাজ করছে। এর ফলে বাংলাদেশিরা সহজেই ভারতে যেতে পারবে। একইসাথে ভারতের যারা বাংলাদশে আসতে চায় তারাও সহজে আসতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ভৌগলিক নৈকট্য সাংস্কৃতিক নৈকট্য এবং সম্প্রীতি তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অবিস্মরণীয়। সাংবাদিক কলামিস্ট আবেদ খান বলেন, একাত্তরের অর্জন পঁচাত্তরে নষ্ট হয়। ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক সেক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের মত দেশে পরিণত হবে। দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএমএ মহাসচিব ও পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, পরিষদের মহাসচিব জেনারেল বাসুদেব ধর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলেও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এক বার্তায় বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদের অফিস আধুনিকায়ন এবং কম্পিউটারাইজ্ড করতে সহায়তার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী, ডা. ইকবাল আর্সলান, নূরুল আকতার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা নমিতা ঘোষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ তথ্যচিত্রের নির্মাতা ও রাজু আলীমকে বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদের পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।