পরিবেশ বান্ধব বায়োগ্যাসে জ্বলছে বাতি, চলছে মোটর

বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া কামারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক এখন ঐ এলাকার মডেল কৃষক। গ্রামের সবচেয়ে বড় এবং গরুর আধুনিক খামারটিই এখন তার। একদিকে গরুর খামার, অন্যদিকে গরুর বর্জ দিয়ে তৈরী বায়োগ্যাসের প্লান্ট। সেই প্লান্ট থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ দিয়ে জ্বলছে তার খামারের বৈদ্যুতিক বাতি, চলছে পানির মোটর। বাড়ির জ্বালানি সমস্যার সমাধানও হয়েছে এই বায়োগ্যাসের চুলা থেকেই। তিনি নিজের বাড়ির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি গ্রামের আশেপাশের বাড়িতেও বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। এছাড়া উত্পাদিত অপ্রয়োজনীয় গ্যাস তিনি সিলিন্ডারে তোলার জন্য বিক্রিও করছেন। আর গ্যাস উত্পাদনের পর পরিসৃষ্ট বর্জ্য তিনি প্যাকেটজাত করছেন ব্যবহারের জন্য উত্কৃষ্ট জৈবসার হিসেবে। বর্জ্যকে সম্পদে রুপান্তরের সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ),বগুড়ার সহযোগিতায় কৃষক খালেকের চোখে এখন দিন বদলের স্বপ্ন। আরডিএর উপ-পরিচালক সমির কুমার সরকার ইত্তেফাককে জানান, যে কোন পচনশীল বস্তুু যেমন মানুষ ও পশুপাখির মলমূত্র, গৃহস্থালীর আবর্জনা বাতাসের অনুপস্থিতে পচানো হলে এক ধরনের রং বিহীন গ্যাস তৈরী হয়। এই গ্যাস শুধু যে রান্নার কাজেই ব্যবহার হয় তা নয়, এটা দিয়ে জেনারেটর চালিত বিদ্যুত্ উত্পাদন করে বৈদুতিক নানা রকমের সরঞ্জাম চালানো যায়। এটা সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস পৌঁছেনি অথবা গ্যাসের সংকট রয়েছে এমন অঞ্চলে সরবরাহ করা যায়। পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহা-পরিচালক আব্দুল মতিন জানান, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে গ্যাসের কোন সংকট থাকবে না। সে কারনেই সরকার মোট ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরডিএ’কে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্লান্ট স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।