হাতিরঝিলে উত্সবের আমেজ
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
বেশ খানিকটা কাজ অসমাপ্ত রেখেই উন্মুক্ত করা হলো প্রতীক্ষিত হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প। উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে প্রকল্প এলাকাটুি যেন উত্সবমুখর হয়ে ওঠে। দিনভর প্রকল্পের বাহারি রঙের ফুলের বাগান, নয়নাভিরাম লেক, সেতু ঘুরে ঘুরে দেখে নগরবাসী রীতিমতো মুগ্ধ। তবে আপাতত পায়ে হেঁটেই দেখতে হচ্ছে প্রকল্প এলাকা, কারণ গাড়ি চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পায়ে হেঁটে মানুষ যাতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করতে পারে সে কারণে আপাতত ৫ থেকে ৭ দিন কোন গাড়ি প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সপ্তাহখানেক পর গাড়ি প্রবেশ করতে দেয়া হতে পারে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকল্পের কিছু এলাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে নিষ্প্রাণ কংক্রিটের রাজধানীতে প্রাণের ছোঁয়া দিয়েছে হাতিরঝিল। প্রচুর দর্শনার্থী এসেছেন প্রকল্পটি দেখতে। সবার চোখে মুখে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষের উপস্থিতি তৈরি করেছে এক উত্সবের আমেজ। প্রকল্পের লেকের পাশে, কেউ সেতুর ওপর আবার কেউ বা ওভারপাসের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। দর্শনার্থীদের বক্তব্য, ঢাকাবাসী ভাবতেও পারেনি এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে।
দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, বাংলামোটর সংলগ্ন প্রকল্প শুরুর স্থানটি দেখে বোঝার উপায় নেই এর সৌন্দর্য। বেগুনবাড়ি বা আরো দূরে গেলেই দেখা মিলবে এর প্রকৃত সৌন্দর্যের। গুলশান থেকে সপরিবারে এসেছেন আমজাদ হোসেন। লেকের পাশে দাঁড়িয়ে ছেলে-মেয়ের ছবি তুলছেন একের পর এক। সন্তানরাও ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন। তিনি জানালেন, এ এক চমত্কার দৃশ্য। এমন একটি বিনোদনের জায়গা দেখে আমরা অভিভূত।
স্থানীয় অধিবাসী আরিফুল হক জানান, এক সময় হাতিরঝিল ছিল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। গোটা এলাকায় ছিল বস্তি। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ছবির মতো একখণ্ড সৌন্দর্য বাগান। আমরা মুগ্ধ।
তবে প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা কর্মীর উপস্থিতি কম ছিল। এ সুযোগে দর্শনার্থীরা ফুল বাগানের ভেতরে গিয়ে ছবি তুলেছেন। কেউ কেউ ফুল ছিড়ে ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমে যাবে বলে অনেকেই মনে করেন।
এদিকে গাড়ি চলাচল শুরু না হলেও প্রচুর সংখ্যক গাড়ি দেখা গেছে। রামপুরা সংলগ্ন এলাকার কোন এক প্রবেশ পথ দিয়ে গাড়িগুলো প্রবেশ করেছে বলে দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন। তবে গাড়ি নিয়ে এলেও কেউ অন্যপ্রান্ত দিয়ে বের হতে পারেনি। যে পথ দিয়ে প্রবেশ করেছে সে পথেই ফিরতে হয়েছে।
সমন্বিত এ প্রকল্পের প্রাণ হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি খাল, যার দুই পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১৬ কিলোমিটার সড়ক, চারটি সেতু, আরো চারটি ক্ষুদ্র সেতু (ভায়াডাক্ট) এবং চলাচলের জন্য চারটি ওভারপাস। বিনোদনের জন্য খালে রয়েছে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা, ছোট পরিসরে পিকনিক স্পটসহ বেশকিছু সুবিধা।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (উন্নয়ন) প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুব উল আলম বলেন, প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নৌ-ঘাট তৈরি ও দুটি ইউলুপ তৈরির কাজ এখনো বাকি আছে।